যানজট-জনজট-জলজট: ছোট ছোট বিশৃঙ্খলাই বড় সংকটের জন্ম দেয়:

পূর্বধলার বাস্তবতা

জাকির খান কামাল 

একটি জনপদের প্রাণকেন্দ্র হলো তার বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু সেই প্রাণকেন্দ্র যদি প্রতিদিন যানজট, জনজট ও জলজটের কবলে পড়ে, তবে জনজীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তেমনি ব্যাহত হয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক নাগরিক জীবন। নেত্রকোনার পূর্বধলা বাজার, স্টেশন রোড, বালিকা বিদ্যালয় রোড এবং পূর্বধলা রেলস্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা এখন আর সাময়িক সমস্যা নয়, বরং একটি স্থায়ী নাগরিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রকট হলো যানজট ও জনজট। এর অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল এবং নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের অভাব। ফলে চালকেরা যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করেন, যা সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। একই সঙ্গে মধ্যবাজারের প্রধান সড়কের ওপর তরকারি মহাল এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকান বসে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। এতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খল পরিবেশ, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে, জলজটও এই এলাকার একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সেই সাথে গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়  এবং নাগরিক দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে যায়।

এসব সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, বাজারের বাইরে একটি পরিকল্পিত অটোস্ট্যান্ড স্থাপন করতে হবে, যাতে প্রধান সড়কে অটোরিকশার অবাধ অবস্থান বন্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, তরকারি মহাল ও রাস্তার ওপর বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করতে হবে। পাটবাজার কিংবা শহিদ মিনারসংলগ্ন খালি জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ব্যবসায়ীদের জীবিকাও বজায় থাকবে, আবার সড়কও দখলমুক্ত হবে।

একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে জলজটের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন জনসচেতনতা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণ। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করাও জরুরি।

মনে রাখতে হবে, বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা কখনো একদিনে তৈরি হয় না; ছোট ছোট অনিয়মই ধীরে ধীরে বড় সংকটের জন্ম দেয়। তাই সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পূর্বধলার নাগরিকদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পূর্বধলা গড়ে তোলাই হোক সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।

জাকির খান কামাল 

সাধারণ সম্পাদক 

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি 

পূর্বধলা,নেত্রকোনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *