20ফেব্রুয়ারী২০২৬

সভাপতি জনাব, ফরিদ আহমেদ তালুকদার বাবুল প্রধান অতিথি জনাব,মো: আনিছুর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পূর্বধলা,নেত্রকোনা। উদ্ভোদক জনাব,রণজিৎ কুমার কর্মকার, বিশেষ অতিথি জনাব, মো: বুলু মিয়া।
@@জাকির খান কামাল@@
সততা স্টোর (Honesty Store) হলো এমন একটি দোকান বা ক্ষুদ্র বিক্রয়ব্যবস্থা যেখানে বিক্রেতা উপস্থিত না থেকেও ক্রেতারা নিজের সততার ওপর নির্ভর করে পণ্য নিয়ে নির্ধারিত মূল্য নিজেরাই জমা দেন। সাধারণত একটি খোলা তাক, মূল্য তালিকা এবং টাকা রাখার বাক্স থাকে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা সামাজিক সংগঠনে নৈতিকতা শিক্ষার অংশ হিসেবে এটি চালু করা হয়। সততা স্টোর: একটি দোকান নয়, মূল্যবোধের বিদ্যালয়। সততা স্টোর হলো বিশ্বাসভিত্তিক লেনদেনের একটি নৈতিক শিক্ষামূলক উদ্যোগ। এর লক্ষ্য মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। সমাজে সততা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার চর্চা নিয়ে আমরা প্রায়ই কথা বলি, কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই মূল্যবোধ অনুশীলনের সুযোগ খুব সীমিত। এই সীমাবদ্ধতার মাঝেই “সততা স্টোর” একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। এটি শুধু একটি দোকান নয়; বরং একটি নীরবশিক্ষালয়, যেখানে মানুষ নিজ সততার পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সততা স্টোরের মূল ধারণা অত্যন্ত সরল। এখানে বিক্রেতা উপস্থিত থাকেন না। ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী টাকা নির্দিষ্ট বাক্সে জমা দেন। কোনো নজরদারি নেই, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই—আছে শুধু নিজের বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতা। এই ছোট্ট ব্যবস্থাই একজন মানুষকে প্রশ্ন করে, “আমি কি সৎ?”

বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা বই-পুস্তকের বাইরে বাস্তব নৈতিক শিক্ষা লাভ করে। সততা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ববোধ ও স্বচ্ছতার মতো মূল্যবোধ তারা অভ্যাসের মাধ্যমে শিখতে পারে। ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে এই অভ্যাস তাদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমাদের সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসততার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। এসব সমস্যা দূর করতে শুধু আইন বা শাস্তি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নৈতিক চেতনার বিকাশ। সততা স্টোর সেই চেতনার বীজ রোপণ করে। কেউ না দেখলেও সঠিক মূল্য প্রদান করার মানসিকতা গড়ে উঠলে তা ব্যক্তিজীবন থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ উদ্যোগ সামাজিক আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। যখন মানুষ দেখে অন্যরা সততার সাথে লেনদেন করছে, তখন পারস্পরিক বিশ্বাসের সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়। বিশ্বাসভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে এমন ছোট উদ্যোগ বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সততা স্টোর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সততা কোনো তাত্ত্বিক শব্দ নয়; এটি দৈনন্দিন আচরণের অংশ। একটি খোলা তাক, কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য এবং একটি অর্থবাক্স—এই সরল ব্যবস্থার মধ্যেই লুকিয়ে আছে নৈতিক নাগরিক গঠনের শক্তিশালী শিক্ষা।
অতএব, সততা স্টোর শুধু পণ্য বিক্রির স্থান নয়; এটি চরিত্র গঠনের কর্মশালা, বিশ্বাসের ভিত্তি এবং একটি সুশীল সমাজ নির্মাণের নীরব আন্দোলন।
জাকির খান কামাল
20 ফেব্রুয়ারী ২০২৬।