চার বছর ধরে শিকলবন্দি মেহেদি
  1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  8. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  9. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : Sobuj Ali : Sobuj Ali
চার বছর ধরে শিকলবন্দি মেহেদি
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

চার বছর ধরে শিকলবন্দি মেহেদি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ৭০ জন পড়েছেন

জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদে আকাশের নিচে বসে আছে সুদর্শন তরুণ মেহেদি হাসান (২৮)। পুকুরের পাড়ে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দিন-রাত পার করছেন তিনি। তার বাম পায়ে লোহার শিকলে তালা পরানো।

মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর গত চার বছর ধরে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এভাবে ঝড়, তুফান ও বৃষ্টির মাঝেও খোলা আকাশের নিচে জীবন পার করছেন তিনি।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে মহালছড়ি উপজেলা সদরের মোহাম্মদপুর এলাকায় পুকুরপাড়ে মেহেদি হাসানের পরিবারের বসবাস। তার বাবা কেনান মিয়া দিনমজুর। মা বকুল খাতুনও প্রায় ১৪ বছর মানসিক প্রতিবন্ধী। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মেহেদি হাসান।  স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হতদরিদ্রের পরিণত হয়েছেন কেনান মিয়া।  

মেহেদি হাসানের মামা মো. শাহদুল ইসলাম জানান, আমার ভাগিনা হঠাৎ করে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। আর্থিক সার্মথ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করানোর পর সুস্থ হয়নি ছেলেটি। চার বছর ধরে এভাবেই পুকুরপাড়ে  জীবন পার করেছে। কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি। আমার ভাগিনা ও বোনের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পুরো পরিবার এখন নিঃস্ব। তাদের মাথা গোঁজার মতো ঠাঁইও হারিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, শিকল খুলে দিলে মানুষের সঙ্গে মারামারি করে। এর আগে বাজারে মারামারি করে দুজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়। এর পর লোকজন জোর করে তাকে লোহার শিকল দিয়ে বেধে রাঁখেন। বৃষ্টি, তুফান ও রোদেও এই পুকুরপাড়ে থাকে ভাগিনা। পুকুরপাড়ে টিনের ছাউনি ছিল, খাট ছিল; সেগুলো সে (মেহেদি হাসান) পানিতে ফেলে দিয়েছে। এখন এভাবে থাকছে।

এ সময় অভিযোগ করে তিনি বলেন, সমাজসেবা অফিস আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। একই পরিবারে মা ও ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী হলেও তারা কোনো ভাতার আওতায় আসেনি।

মহালছড়ি তরুণ সংগঠক জিয়া জানান, সে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভালো করেই পড়াশোনা করেছে। তাদের ঘরবাড়ি নেই। মা ও ছেলে দুজনই মানসিক প্রতিবন্ধী। তাদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ পর্যন্ত তারা কোনো ভাতা পায়নি। সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।

মেহেদি হাসানের মামা মো. ইসমাইল বলেন, আমরাও আর্থিকভাবে তেমন সক্ষম না। সরকার তাদের পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করলে ভালো হতো।
মহালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল জানান , সে তো প্রতিবন্ধী এবং কার্ড পাওয়ার যোগ্য। আমরা শিগগিরই তাদের প্রতিবন্ধী কার্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মহালছড়ি সমাজসেবা অফিসার মো. শামসুল হক জানান, আমাদের প্রতিবন্ধী জরিপ কার্যক্রম আছে। প্রতিবন্ধী জরিপ কার্ড পূরণ করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। চিকিৎসক দ্বারা প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরি অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর উপজেলা প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ কমিটি যাচাই-বাছাই করার পর তাদের ভাতার আওতায় আনা হবে। এর আগে সম্ভব না।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, তাদের  দ্রুত রাষ্ট্র প্রদত্ত প্রতিবন্ধী সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হবে। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের সহায়তার উদ্যোগ নেব।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড