হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় হাইকোর্টের রুল
  1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  8. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  9. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : Sobuj Ali : Sobuj Ali
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় হাইকোর্টের রুল
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১০:০৫ অপরাহ্ন

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় হাইকোর্টের রুল

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ৭৬ জন পড়েছেন

আইন ভঙ্গ করে দীর্ঘ দিন পাবনার বেড়া পৌরসভার সরকারের বরাদ্দ করা অর্থ ছাড় না করায় বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন হাইকোর্ট। 

হাইকোর্টের আদেশে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড়সহ তার বিরুদ্ধে কেন স্থানীয় সরকার (পৌরসভা)আইন ও দেশের সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে না-সেই মর্মে রুল জারি করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বেড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ আব্দুল বাতেনের দায়ের করা এক রিট পিটিশনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন এ আদেশ দেন। আদেশের কপি রোববার বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয় এবং মঙ্গলবার এটি সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানান, রাজশাহী বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে এতদিন পৌরসভার অর্থ ছাড় করা হয়নি। 

কিন্তু বুধবার বিকালে রাজশাহী বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তিনি কখনই এমন নির্দেশ দেননি। বরং মঙ্গলবার বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাকে বিষয়টি জানান। এরপরই মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অফিসে বিষয়টি আমি জানিয়েছি। 

দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস ধরে মাস ধরে নিজের একগুয়েমি এবং খামখেয়ালির মাধ্যমে পাবনার বেড়া পৌরসভার অর্থ ছাড় করছেন না উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। 

এ অবস্থায় বেড়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো, সড়ক মহাসড়কসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপুর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গু ও মশক নিধন কাজও মুখথুবড়ে পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের পরপর ৩টি বরাদ্দ করা অর্থ ছাড় না করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ঈদুল ফিতরেও সরকারি অংশের বেতন-ভাতা পাননি। এ অবস্থায় পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

বেড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, গত বছর বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে উপজেলার মাসিক সভায় অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে একই বছরের ১৩ অক্টোবর বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক চিঠিতে বরখাস্ত করা হয়। 

পরে মেয়রের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে ওই চিঠির কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করলে মেয়র আব্দুল বাতেন পৌরসভায় পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর চলতি বছরের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত অপর এক আদেশে আগের স্থগিতাদেশ আরও  ৩ মাস বর্ধিত করেন।

এদিকে মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করলেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার চিঠি না পাওয়ার অজুহাতে পৌরসভার কোনো অর্থ ছাড় করছেন না। এতে করে গত প্রায় ৭ মাস ধরে পৌরসভার অগ্রাধিকারমূলক কোভিড, ডেঙ্গু ও মশক নিধন, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামোসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। 

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতি বছর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সহায়তা হিসেবে সরকার চার কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পর পর ৩টি কিস্তির সরকারি বরাদ্দ করা অর্থ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড় করেননি। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের দেয়া ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাও তিনি ছাড় না করায় এ করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ কাজও মুখথুবড়ে পড়েছে। 

বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল মাস পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো, সড়ক মহাসড়ক, ড্রেন কালভার্ট, উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ, স্বাস্থ্য বিধান ও পানি সরবরাহ, ডেঙ্গু ও মশক নিধন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের ৩ কিস্তির মোট প্রায় পৌনে ৫ কোটি টাকা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড় করছেন না। এজন্য চলমান সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া কর্মচারীদের সরকারি বেতন সহায়তার অর্থও ছাড় না করায় এবারের ঈদুল ফিতরেও তারা ওই অর্থ পাননি। 

এ অবস্থায় বেড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ আব্দুল বাতেনের দায়ের করা এক রিট পিটিশনের (৪৪৯৫/২০২১) ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন এক আদেশে আইন ভঙ্গ করে দীর্ঘ দিন পাবনার বেড়া পৌরসভার সরকারের বরাদ্দ করা অর্থ ছাড় না করায় বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। 

কোর্ট তাকে ৭ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড়সহ তার বিরুদ্ধে কেন স্থানীয় সরকার (পৌরসভা)আইন ২০০৯ এর ৮৯(২)এর(ছ) এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে না-সে মর্মে রুল নিশি জারি করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। 

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের ওই আদেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহা-হিসাব নিরীক্ষক, পাবনার জেলা প্রশাসক, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। 

আদেশের কপি রোববার বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। 

এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শোকজের কাগজ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বেড়া পৌরসভার মেয়রের উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশের কোনো চিঠি তিনি পাননি। এজন্য এসব অর্থ ছাড় করা হয়নি। 

এদিকে পৌরসভার মেয়রের বরখাস্ত হওয়ার কোনো চিঠি তাকে দেয়া হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, কোনো চিঠি পাননি কিন্ত রাজশাহী বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মৌখিকভাবে তাকে বিল ছাড় করা বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। 

সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত নিদের্শ ছাড়া এত দীর্ঘদিন পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবার একটি প্রতিষ্ঠানের সরকারি বরাদ্দ অর্থ ছাড় না করে ধরে রাখা যায় কিনা-এমন প্রশ্নের তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। 

এদিকে বুধবার বিকালে রাজশাহী বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, তিনি কখনই এমন নির্দেশ দেননি। বরং মঙ্গলবার বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাকে বিষয়টি জানান। এরপরই মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অফিসে বিষয়টি আমি জানিয়েছি। 

এ ব্যাপারে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা এবং জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। তবে এতদিন সরকারি বরাদ্দ করা অর্থ ছাড় না করে ধরে রাখা ঠিক হয়নি। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিস আমার অধীনে না। এজন্য আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

এ ব্যাপারে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে একাধিকবার দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তার খামখেয়ালিপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ বন্ধের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নাগরিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। বাধ্য হয়ে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড