ভয়ংকর ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’-এ আক্রান্তের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
  1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  8. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  9. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : Sobuj Ali : Sobuj Ali
ভয়ংকর ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’-এ আক্রান্তের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

ভয়ংকর ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’-এ আক্রান্তের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ৫৬ জন পড়েছেন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত ভারত এখন ধুঁকছে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ আতঙ্কে। ভয়ংকর ছত্রাকজনিত এই রোগে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২১৯ জনের।

যে কারণে তামিলনাড়ু, গুজরাট, ওডিশা, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানা- এই পাঁচ রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি নতুন আতঙ্ক ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও চলে এসেছে বাংলাদেশে।

এতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুও ঘটেছে। অর্থাৎ করোনা মহামারির এই সংকটকালে মড়ার ওপর খাড়া ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’।

অনেকেই জানতে আগ্রহী কী এই  ব্ল্যাক ফাঙ্গাস? এই রোগের লক্ষণ কী কী? কারা এতে আক্রান্ত হয়? এটি প্রতিরোধের উপায় কি?

 ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’-এর লক্ষণ

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মিউকোরমাইকোসিস বলে। এটি একটি ছত্রাক যা ছোঁয়াচে নয়। যেসব করোনা রোগী অতিরিক্ত স্টেরয়েড ওষুধ নিয়ে রোধ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলেন তাদের এই ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষ্মণ সম্পর্কে চিকিৎসরা জানান, এটি চোখে সংক্রমণ ঘটালে আক্রান্তের নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাকে ঘা হয়ে রক্তক্ষরণ হয়, রোগী চোখে ঝাপসা দেখে অর্থাৎ দৃষ্টি শক্তি কমে আসে, চোখের ভেতর থেকে রক্তক্ষরণ হয়, চোখ জ্বালা পোড়া করে, কারো কারো মুখের একদিকে ফুলে যায়, নাক অথবা দাঁতের মাড়ি কালো হয়ে যায়, এক পর্যায়ে কফের সঙ্গে রক্ত যায়, রক্ত বমি হয়, মাথা ব্যথা, দাঁতে ব্যথা ও ঘাড়ে ব্যথা শুরু হয়। ত্বকে কালো দাগ দেখা দেয়।

এছাড়া নতুন করে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ঘটে। ফুসফুসের অক্সিজেন ধরে রাখার সক্ষমতা কমে যায় রোগীর। ফলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে গুজরাট ও দিল্লিতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত অনেক রোগীর লক্ষণগুলো এমনই বলে জানিয়েছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

কীভাবে আক্রান্ত হয়?

ছোঁয়াচে না হলে মানুষ কীভাবে এতে সংক্রমিত হয় সে বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, এ ছত্রাক নাক দিয়ে প্রবেশ করে। নাকে ও চোখে সংক্রমণ বাড়ায়। এমনকি পেটেও আস্তানা গাড়তে পারে এই ফাঙ্গাস।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের বিষয়ে বারডেমের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বিবিসিকে জানান, এ ছত্রাক আমাদের পরিবেশে সবসময়েই থাকে। মানুষের শরীরেও সবসময়ে থাকে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে তখন এটা রোগ হিসাবে দেখা দেয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

করোনা চিকিৎসায় অতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারকেই পরবর্তীতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।

বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, যে কারণে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে সতর্কতা নিয়ে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় সব ওষুধ দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোন ওষুধে কী ধরণের নির্দেশনা দিয়েছে সেটিও দেখতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী জানান, রক্ত, চামড়া, মুখ, নখসহ শরীরের নানা জায়গায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ইনফেকশন হতে পারে এবং সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাদের ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস অনেক বেশি, যাদের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ড্যমেজ, এইডসের এর মত জটিল রোগ আছে তাদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আক্রান্ত করলে পরিস্থিতি ভয়ানক হতে পারে।  সব করোনা আক্রান্ত রোগীদের এই রোগ হয় না। শুধু মাত্র যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, দীর্ঘদিন আইসিইউ-তে আছে তাদের মধ্যে এই রোগটি বেশি দেখা গেছে।

এই ভয়ঙ্কর ছত্রাক থেকে কী করে দূরে থাকা যায়?

মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, এসব ছত্রাক পরিবেশে বিশেষ করে মাটি, পচে যাওয়া জৈব পদার্থে (যেমন: পচা ফলমূল, পাতা বা পশুর বিষ্ঠা) ছড়িয়ে থাকে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের জীবাণু প্রাকৃতিক ভাবে অরগানিক কিংবা ময়লার মধ্যে থাকেই। তাই এসব থেকে দূরে থেকে সর্বদা পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সব সময় পরিষ্কার মাস্ক পরতে হবে, একই মাস্ক বার বার ব্যবহার করা যাবে না। শরীরকে দুর্বল রাখা যাবে না। শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ভিটামিন সি, ডি, ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।

অনেক ধূলিকণা যেমন নির্মাণ বা খননকাজের জায়গা, যেখান থেকে ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলা, জুতার সঙ্গে মোজা ব্যবহার করা। খালি পায়ে না ঘোরা। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালের স্পর্শে না যাওয়া। বাড়ির আঙিনা বা বাগানের কাজে/মাটি খননের সময় জুতা, লম্বা প্যান্ট, লম্বা হাতা শার্ট ও গ্লাভস পরিধান করা। ত্বকে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কমাতে পচা মাটি বা ধূলিকণার সংস্পর্শে গেলে সাবান ও পানির সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করা। ব্লাড-সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত করা হয় যেভাবে

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

ব্যক্তি এই ছত্রাকে আক্রান্ত কি না তা জানতে মাইক্রোস্কোপের স্লাইডে পরীক্ষা করে কিংবা কালচার করে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাছাড়া প্রাথমিকভাবে সিটি স্ক্যান করেও নির্ণয় করা সম্ভব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস  শনাক্ত করতে হলে নাক কিংবা চোখে যেখানে উপসর্গ দেখা যায় সেখান থেকে নমুনা নিতে হয়। নমুনা নেওয়ার পর মাইক্রোস্কোপের নিচে স্লাইড বানিয়ে সেখানেই দেখা হয়। আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে কালচার করে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে কালচার মিডিয়া আছে। কালচার করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

তিনি যোগ করেন, ইনফেকশন হলে ফাঙ্গাস সিটি স্ক্যানে বুঝা যাবে কিন্তু কোন ফাঙ্গাস , ব্ল্যাক, হোয়াইট নাকি ইয়েলো সেটি বুঝতে মাইক্রোস্কোপে দেখা লাগবেই। কালচার করা যায় তবে কালচার করার পর স্যাম্পল নিয়ে আবার মাইক্রোস্কোপে দেখতে হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড