পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতী, ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে
  1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত
  8. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  9. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  12. [email protected] : Sobuj Ali : Sobuj Ali
পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতী, ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন

পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতী, ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১
  • ৯২ জন পড়েছেন

পেটে গুরুতর জখম নিয়ে পঞ্চগড়ে পাওয়া বিরল প্রজাতির  রেড কোরাল কুকরি সাপটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চগড়ের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় মাটি কাটার সময় খনন যন্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিল সাপটি।

রাজশাহীর সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন তার স্থানীয় এক সহযোগীর মাধ্যমে সাপটি উদ্ধার করে রাজশাহীতে আনেন। গবেষক বোরহান বিশ্বাসের মতে, কমলা রঙের কোরাল কুকরি দেশে পাওয়া এই প্রজাতির একমাত্র সাপ। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সাপটি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর পবায় বোরহান বিশ্বাসের সাপের চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।

এদিকে উদ্ধারের সময় বোরহান বিশ্বাসসহ প্রাণীবিজ্ঞানীরা এই প্রজাতির সাপ এটিই দেশে প্রথম দেখতে পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের প্রাণীবিজ্ঞানীরাও খোঁজখবর নিয়ে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন।

কমলাবতী সাপটির সারা শরীর কমলা রঙের। উদ্ধারের সময় বাংলা কোনো নাম ছিল না। রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সাপপ্রেমী বোরহান বিশ্বাস এর নাম দিয়েছেন ‘কমলাবতী’। টানা তিন মাসের চিকিৎসায় তিনি সাপটিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলেছেন।

উদ্ধারের সময় সাপটির পেট কেটে গিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। কয়েকবার খোলস বদলানোর ফলে ক্ষতস্থানের দাগ এখন মুছে গেছে কমলাবতীর। এখন সাপটি খেতেও পারে আবার চলতেও পারে।

এদিকে গত রোববার আন্তর্জাতিক ন্যাচার জার্নাল- এশিয়া প্যাসিফিকে এই সাপটিকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ভীষণ খুশি বোরহান বিশ্বাস রোমন।

সোমবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে বোরহান বিশ্বাস বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের কাজের জন্য একটা বড় স্বীকৃতি। আর সবচেয়ে আনন্দের বিষয় এই যে, বিরল প্রজাতির একটি সাপকে আমরা চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পেরেছি। উদ্ধারের সময়  ওর বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম ছিল। কমলাবতীর এই নতুন জীবন পাওয়াতে আমাদের খুব আনন্দ হচ্ছে।

প্রাণী গবেষক বোরহান বিশ্বাস সাপ নিয়েই গবেষণা করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছেন। কোথাও সাপ উদ্ধারের জন্য ডাক পড়লে তিনি অকুতোভয়ে ছুটে যান। সাপ উদ্ধার করেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলায় নিজের সাপ উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে সাপের চিকিৎসা দেন তিনি। চিকিৎসায় আহত সাপ সুস্থ করে তোলেন। তার সুচিকিৎসার মাধ্যমে আহত অনেক সাপ সুস্থ হয়ে ওঠে। নতুন জীবন পায়। বোরহান বিশ্বাস রোমন সেই সাপ আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেন।

বোরহান বিশ্বাস আরও বলেন, আর কয়েকদিন গবেষণার পর কমলাবতীকেও নিরাপদ প্রকৃতির মাঝে মুক্ত করে দেওয়া হবে। রেড কোরাল কুকরি সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। এ জন্য রাতেই তাকে ছাড়তে প্রকৃতিতে। পঞ্চগড়ে যে এলাকা থেকে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানেই ছাড়া হবে। কারণ, পঞ্চগড়ের ওই পরিবেশেই কমলাবতী বেঁচে ছিল। ওই এলাকাটিও কমলাবতীর চেনা। সেখানে অন্য সাপও থাকতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়ে তাকে পঞ্চগড়েই রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদের পরই দিনক্ষণ ঠিক হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পঞ্চগড়ের অন্যান্য এলাকাতেও গত ২০ ফেব্রুয়ারি ও গত ২০ এপ্রিল আরও কয়েকটি রেড কোরাল কুকরি উদ্ধার হয়েছে। বন্যপ্রাণী গবেষকরা সেইসব সাপ উদ্ধার করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছেন।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ও সংরক্ষক ফিরোজ আল সাবার মতে, পঞ্চগড় এলাকাতে এই বিরল প্রজাতির সাপ আরও আছে। কারণ এই সাপ মূলত: ঠাণ্ডা এলাকাতেই বসবাস করতে পারে। হিমালয় সংলগ্ন এলাকাতে রেড কোরাল পাওয়া যায়। বাংলাদেশের পঞ্চগড় এলাকাটি শীতপ্রবণ হওয়ায় এই এলাকাতে আরও রেড কোরাল আছে। স্থানীয় এই রেড কোরালকে সিন্দুরী সাপ বলে। এজন্য আরও গবেষণা দরকার।

এদিকে প্রাণী গবেষণা তথ্য জানিয়েছে রেড কোরাল কুকরি অলিগোডন গোত্রভুক্ত একটি সাপ। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের খেরি বিভাগের উত্তরাঞ্চল থেকে এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের গহীন অরণ্যঘেরা নৈনিতাল জেলা থেকে মৃত অবস্থায় এই সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।

এছাড়া ২০১২ সালে উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলার কতরনিয়াঘাট বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এই ধরনের সাপ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সাপটি জলস্রোতে ভেসে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে উত্তরের পঞ্চগড় জেলায় চলে আসে। তবে কমলাবতীর জন্ম কোথায় তা শনাক্ত করা সম্ভব নয় এখন।

সাম্প্রতিককালের মধ্যে ২০১৮ সালে ভারতের সোনারিপুরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা থেকে এই ধরণের সাপ পাওয়া যায়। এরপর ২০১৯ সালের জুন মাসে সেখানে আরেকটি সাপ পাওয়া যায়। ২০২০ সালের আগস্টে নৈনিতাল জেলার একটি বাড়ি থেকে রেড কোরাল কুকরি সাপ উদ্ধার করা হয়। এরপরই পঞ্চগড়ে এই প্রজাতির একটি সাপ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এই সাপ দেখা পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম-এমন দাবি বোরহান বিশ্বাসের।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড