জন্ম নিবন্ধন করতে নজিরবিহীন ভোগান্তি
  1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত
  8. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  9. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  12. [email protected] : Sobuj Ali : Sobuj Ali
জন্ম নিবন্ধন করতে নজিরবিহীন ভোগান্তি
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

জন্ম নিবন্ধন করতে নজিরবিহীন ভোগান্তি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১
  • ১৮৩ জন পড়েছেন

নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে অনেককেই ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ৭টি উপজেলায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঝামেলার কারণে অনেকেই জন্ম সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না।

সনদ পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। যাদের জন্ম ২০০১ সালের পর তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই যে কারও জন্ম নিবন্ধন করা যেত। গত পহেলা জানুয়ারি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে আটকা পড়েন অনেক বাবা-মা। আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন করতে হয়, তারপর হয় সন্তানের জন্ম সনদ।

নতুন নিয়ম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল এবং তারপর থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম সনদ পেতে হলে আগে তার মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। আর ২০০১ সালের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই হয়।

এ নিয়ম চালু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক।

সোমবার সকালে আড়াইহাজারের দুপ্তরা এলাকায় গিয়ে কথা হয় মনিরা বেগমের সঙ্গে। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়েছিলেন গত দুই মাস আগে।

মনিরা বেগম বলেন, তাদের দুজনের জন্ম নিবন্ধন আছে। তবে একজনের ইংরেজিতে অন্যজনেরটা বাংলায় হওয়ার কারণে তারা আবেদনই করতে পারছেন না। সন্তানেরটাও হচ্ছে না।

বিষয়টির ব্যাখ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মী বলেন, সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মা দুজনের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বাবা ও মায়েরটা যদি বাংলায় হয় তাহলে সন্তান বাংলায় একটা জন্ম নিবন্ধন পাবে। আর দুটোই ইংরেজিতে হলে জন্ম নিবন্ধন পাবে ইংরেজিতে। কিন্তু যদি দুজনেরটা আলাদা হয় তাহলে আবেদনই করতে পারবে না। দুজনেরটা এক ভাষায় করে নিতে হবে। এটা করলে সন্তান জন্ম নিবন্ধন নিতে পারবে। এ ধরনের সমস্যা অনেক হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ আইটি স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, তিনি তার ছেলের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ছেলের কার্ড করতে গেলে আমাকে বলছে আগে আমাদের দুইজনের জন্ম নিবন্ধন লাগবে। আমাদের নিবন্ধন হইছে, এখন ছেলেরটার অপেক্ষায় আছি।

নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, আমার বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রায় ১৫০ জন। এর মধ্যে গত ৪ মাসে ২০ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের উপবৃত্তি পেতে হলে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই বহু বাচ্চার বাবা-মা ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে নিজেদের জন্ম সনদ না থাকায় বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন না করেই ফিরে আসতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার উপপরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, পাসপোর্ট করা, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সবার জন্ম সনদ প্রয়োজন। সবাই যেন জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আসেন সেই জন্য নিবন্ধনের আবেদনে কিছু বিষয় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শূন্য থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য টিকার কার্ড, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

অপরদিকে ৪৬ দিন থেক ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন নিতে টিকার কার্ড-স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষর ও সিলসহ প্যাডে হতে হবে, পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নসহ বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নের সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবে, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর,  ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

আর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১নং কলামের স্বাক্ষর ও সিল বাধ্যতামূলক। যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যদি জন্ম ২০০১ সালের আগে হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যুসনদ বাধ্যতামূলক।

যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের পিতা-মাতা মৃত হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করার পর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। উভয় সনদ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সন, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-নারী সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড