বিলুপ্তের পথে ঐতিহ্যের গ্রে হাউন্ড কুকুর
  1. news-desk@nongor.news : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  2. niloy@nongor.news : Creative Niloy : Creative Niloy
  3. nisan@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  4. mdashik.ullah393@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. sultanashaila75@gmail.com : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  6. ronia3874@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. sarowar@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
বিলুপ্তের পথে ঐতিহ্যের গ্রে হাউন্ড কুকুর
বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

বিলুপ্তের পথে ঐতিহ্যের গ্রে হাউন্ড কুকুর

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০১ জন পড়েছেন

শক্ত গড়নের পাঁজর আর দীর্ঘদেহী গ্রে হাউন্ড কুকুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি প্রাণী। সাহস আর রণকৌশলে অন্যসব কুকুরের চেয়ে আলাদা এই কুকুর। দৌঁড়ের গতিও অন্যসব কুকুরের থেকে বেশি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর শিকারে পারদর্শীতার কারণে গ্রে হাউন্ড কুকুর জায়গা পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ডগ স্কোয়াডেও। তবে ঐতিহ্যবাহী গ্রে হাউন্ড কুকুর এখন অস্তিত্ব সংকটে। পুরো সরাইলজুড়ে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে দেখা মিলে এই কুকুরের। এর মধ্যে একটি পরিবার এখনও বংশ পরম্পরায় গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন করছে।

দারিদ্র্যতার মাঝেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌড়াগুদা গ্রামের দুই ভাই তপন লাল রবিদাস ও যতন লাল রবিদাস গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন করছেন। তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলুপ্তের দ্বারপ্রান্তে ঐতিহ্যের গ্রে হাউন্ড কুকুর।

জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় দুশ বছর আগে সরাইলের জমিদার দেওয়ান মোস্তফা আলী সর্বপ্রথম গ্রে হাউন্ড কুকুর নিয়ে আসেন সরাইলে। এক বৃটিশ নাগরিকের কাছ থেকে নিজের একটি হাতির বিনিময়ে গ্রে হাউন্ড কুকুর নেন জমিদার মোস্তফা আলী। একদিন কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে শিকারে যান তিনি। তখন কুকুরটি জঙ্গলে হারিয়ে যায়। ছয় মাস পর কুকুরটি গর্ভাবস্তায় ফিরে আসে। প্রসবের পর দেখা যায়, ছানাগুলো অন্যসব কুকুরের চেয়ে আলাদা। অনেকটা বাঘের মতো দেখতে। সেই থেকে সবার ধারণা, জঙ্গলে বাঘের সঙ্গে মিলন হয়েছিল কুকুরটির। এরপর থেকে সরাইলের বিভিন্ন বাড়িতে গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন শুরু হয়।

গ্রে হাউন্ড কুকুর

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় সরাইল উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে দেখা মিলত গ্রে হাউন্ড কুকুরের। মূলত বাড়ির নিরাপত্তা এবং শিয়াল তাড়ানোর জন্য গ্রে হাউন্ড পালনে উৎসাহী হন সরাইলের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে এই কুকুর বাণিজ্যিকাভাবেও লালন-পালন শুরু করেন অনেকে। তবে অন্যসব কুকুরের তুলনায় গ্রে হাউন্ড পালন কিছুটা ব্যয় সাপেক্ষ। এর ফলে অনেকেই গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন বন্ধ করে দেন। এতে করে কমতে থাকে গ্রে হাউন্ড কুকুরের সংখ্যা। এখন হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার শখের বশে গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন করছে। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে শুধুমাত্র তপন রবিদাস ও যতন রবিদাসই গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন করছেন।

গ্রে হাউন্ড কুকুর পালনকারী সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কালিকচ্ছ গ্রামের মোহাম্মদ মাসুদ জানান, শখ করে তপন রবিদাস ও যতন রবিদাসের কাছ থেকে একটি কুকুর ছানা নিয়েছিলেন তিনি। কুকুরটি তার বাড়ির নিরাপত্তার কাজ করে। রাত জেগে বাড়ি পাহারা দেয়। প্রভুভক্ত সেই কুকুর মাসুদকে দূর থেকে দেখলেই দৌঁড়ে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে। সরাইলের ঐতিহ্যবাহী এই কুকুরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তপন লাল রবিদাস ও যতন লাল রবিদাসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের দাদার বাবা কালীচরণ রবিদাস সর্বপ্রথম গ্রে হাউন্ড পালন শুরু করেন। এরপর দাদা গঙ্গাচরণ রবিদাস এবং পরবর্তীতে বাবা মোহন লাল রবিদাস গ্রে হাউন্ড কুকুর পালন করেছেন। বংশ পরম্পরায় এখন তপন রবিদাস ও যতন রবিদাস কুকুর পালন করছেন। বর্তমানে তাদের কাছে দুই বছর বয়সী চারটি বড় আকারের গ্রে হাউন্ড কুকুর আছে। এর মধ্যে দুটি পুরুষ লিঙ্গ ও দুটি স্ত্রী লিঙ্গের। এছাড়া পাঁচটি কুকুরছানাও রয়েছে তাদের কাছে। ছানাগুলোর বয়স দুই মাস। কুকুরগুলোর খাবারের তালিকায় রয়েছে ভাত, মাছ, মাংস, দুধ ও সিদ্ধ ডিম।

বড় কুকুরগুলো বিক্রি না করলেও ছানাগুলো প্রত্যেকটি ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি বছর ৭-৮টি গ্রে হাউন্ড কুকুর ছানা বিক্রি করেন দুই ভাই। কুকুর ছানাগুলো বিক্রি করা হয় স্ট্যাম্প করে। তবে পেশায় মুচি তপন ও যতনের জন্য গ্রে হাউন্ড পালন করা এখন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। স্বল্প আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। এর ফলে অর্থের অভাবে ঠিকভাবে গ্রে হাউন্ড কুকুরের পরিচর্যা করতে পারছেন না তপন ও যতন।

তপন লাল রবিদাস বলেন, ‘বড় প্রত্যেকটি কুকুরের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০০ টাকার খাবারের প্রয়োজন হয়। ভাত, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার খায় না গ্রে হাউন্ড কুকুর। কিন্তু সবসময় আমরা এই খাবার খাওয়াতে পারি না। আর্থিক টানাপোড়েনের সংসারে আমাদের নিজেদের চলতেই কষ্ট হয়। এর মধ্যে কুকুরের খাবারের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র পূর্ব পুরুষরা কুকুর পালন করত বলেই আমরা এখনও পালন করছি। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে গ্রে হাউন্ড কুকুরের ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না। সেজন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা করার দাবি জানাচ্ছি।’

যতন লাল রবিদাস বলেন, ‘বাবা বলেছিলেন জমিদার এবং আমার দাদার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য দুটি কুকুর বাড়িতে রাখতে। আমরা দুই ভাই যতদিন বেঁচে থাকব স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এই কুকুর পালন করব। আমাদের সন্তানদেরও বলেছি আমাদের মৃত্যুর পর যেন তারা কুকুর পালন করে।’

সরাইল তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রে হাউন্ড কুকুর পালনকারীদের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার পাশাপাশি সরাইলে একটি ব্রিডিং সেন্টার (গ্রে হাউন্ড কুকুর প্রজনন কেন্দ্র) চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযূষ কান্তি আচার্য বলেন, ‘গ্রে হাউন্ড কুকুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ঐতিহ্য। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এই ঐতিহ্য বিলীন হতে বসেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরাইলে সরকারি উদ্যোগে একটি ব্রিডিং সেন্টার (গ্রে হাউন্ড কুকুর প্রজনন কেন্দ্র) স্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। গ্রে হাউন্ড কুকুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্রিডিং সেন্টার চালুর দাবি জানান তিনি।’

সরাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গ্রে হাউন্ড কুকুরের প্রজননকেন্দ্রটি অপরিকল্পিতভাবে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ভবনের বাইরে স্থাপন করা হয়েছিল। সেটি এখন অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন করে প্রজনন কেন্দ্র চালু করার জন্য সরকারের কোনো বাজেট নেই। তবুও প্রজনন কেন্দ্র চালুর ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, ‘প্রজনন কেন্দ্রটি কী কারণে বন্ধ হয়ে গেছে- সেটি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব সরকারিভাবে কী কী করা যায়। তবে গ্রে হাউন্ড কুকুরের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগকেই উদ্যোগ নিতে। আমরা শুধু তাদেরক প্রয়োজনীয় সহায়তা দেব।’

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড