নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের রাস্তার বেহাল দশা
  1. news-desk@nongor.news : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  2. niloy@nongor.news : Creative Niloy : Creative Niloy
  3. nisan@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  4. mdashik.ullah393@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. sultanashaila75@gmail.com : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  6. ronia3874@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. sarowar@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের রাস্তার বেহাল দশা
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের রাস্তার বেহাল দশা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৭ জন পড়েছেন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছে। বালু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়াভাবে দুর্গাপুর পৌর শহরের রাস্তা দিয়ে নদী থেকে ভেজা বালু পরিবহন করায় রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সোমেশ্বরী নদীটি একসময় ছিল অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি।

ওই নদীর চরে থাকা বালু সরকারি ইজারায় বিক্রি করা হলেও কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা ড্রেজারের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীটি বর্তমানে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে।

জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী থেকে গত কয়েক বছর ধরে বালু উত্তোলনের নামে চলছে বালুলুট। ভেজা বালু পরিবহনের কারণে পরিপাটি পৌরশহর সবসময়ই কাঁদাপানিতে ভরে থাকে।

ট্রাকে করে ভেজা বালু পরিবহনের সময় নদীর পানি সড়কের ওপর পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা সোমেশ্বরী নদীকে করছে ক্ষতবিক্ষত। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল ব্যাপকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী ও নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষ।

সরকার পাচ্ছে নামমাত্র রাজস্ব। ভেজা বালু পরিবহনে রাস্তা ভাঙনের কারণে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। ৩১৬ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সড়কের বিভিন্ন স্থান দেবে যাচ্ছে। কেবল প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অসাধুতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে পৌরবাসীর জনজীবন।

মুনাফালোভী এ অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে লরি-ট্রাকগুলোতে অতিরিক্ত বালু বোঝাই থেকে শুরু করে সড়কে চলে অদক্ষ চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা।

পৌর শহরের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত সড়কে ঝরছে প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনা এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী।

বালুবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ২০২০ সালে ঝড়ে গেছে শিক্ষার্থীসহ ৮২ জনের প্রাণ। আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জনের মতো। এর আগে আরও চার শিশু মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুর্গাপুরের বিভিন্ন স্থানে লরি ও ট্রাকের চাপায় মারা যায়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী সম্প্রতি লাগাতার আন্দোলন করলেও টনক নড়েনি স্থানীয় প্রশাসন ও বালু ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় প্রশাসনকে কব্জায় রেখে বালু ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বীরদর্পে।

দুর্গাপুরে এখন ভয়ের রাজত্ব চলছে। ঘর থেকে বের হলে বালুবাহী ট্রাক-লরির চাপায় পিষ্ট হওয়ার ভয়, আবার ঘাতকদের বিরুদ্ধে কথা বললেও সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি, অত্যাচার, নির্যাতন, লাঞ্চিতের শিকার হওয়ার ভয়, দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার ভয়।

গত কয়েক দিন আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে প্রকাশ্যে হামলা করে সাত শিক্ষার্থীকে মারাত্মকভাবে আহত করে কতিপয় বালুখেকো সন্ত্রাসী।

এসবের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ালেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এ সময়ে পর্যটকদের ভিড়ে পৌরশহরের দোকান গুলোতে আদিবাসী পোষাক কেনার ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তায় কাঁদা থাকার কারনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। শহরের দোকানগুলো এখন ক্রেতাশুন্য।

এ নিয়ে গত ২৪ জানুয়ারি শহরের সব ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাইপাস সড়ক দিয়ে বালু পরিবহন করার আশ্বাস প্রদান করলে বন্ধ হয় ধর্মঘট। মাত্র কয়েক দিন যেতে না যেতেই ফের শুরু হয় ভেজা বালু পরিবহন।

সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা দুর্গাপুর ও সোমেশ্বরী নদী দেশের জাতীয় সম্পদ। পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনাময় এমন সম্পদ এখন চলে গেছে সিন্ডিকেটের হাতে।

দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ ও সোমেশ্বরী নদীর দুর্দশা নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।  

সোমেশ্বরী নদীর ১নং বালুমহালের ইজারাদারের প্রতিনিধি ফারুক মিয়া বলেন, আমরা সরকারের কাছ থেকে বালুমহাল ইজারা নিয়েছি ব্যবসা করার জন্য। সরকারি নিয়ম মেনেই আমরা বালু পরিবহন করছি।

বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী পরিবেশবাদী অহিদুর রহমান বলেন, দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তা না হলে কিছু দিনের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে। নদীর তলদেশের ভারসাম্যতা বিনষ্টের কারণে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

এ দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম যুগান্তরকে বলেন, বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হলে শহরের ভেতর দিয়ে বালু পরিবহন বন্ধ হবে।

সূত্রঃ যুগান্তর

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড