শবর দাশগুপ্ত : এক মানবিক বাঙালি পুলিশ গোয়েন্দা
  1. news-desk@nongor.news : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  2. niloy@nongor.news : Creative Niloy : Creative Niloy
  3. nisan@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  4. mdashik.ullah393@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. sultanashaila75@gmail.com : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  6. ronia3874@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. sarowar@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
শবর দাশগুপ্ত : এক মানবিক বাঙালি পুলিশ গোয়েন্দা
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

শবর দাশগুপ্ত : এক মানবিক বাঙালি পুলিশ গোয়েন্দা

সাহিত্য ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৯ জন পড়েছেন

শবর দাশগুপ্ত, গোয়েন্দা, লালবাজার। নিজেকে এভাবেই পরিচয় দেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা শবর দাশগুপ্ত। 

জনপ্রিয় সাহ্যিতিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার কলমের মাধ্যমে পাঠকের সামনে যে শবর দাশগুপ্তকে নিয়ে এসেছেন সেই শবর এখন ভারতীয় বাংলা সিনেমার কল্যাণে কিন্তু অনেকেই কাছে পরিচিত। 

এই পুলিশ গোয়েন্দার অনত্যম বৈশিষ্ট্য হলো উনি খুব সাধারণ। এতটাই  সাধারণ যে পথ চলতে হয়তো একবার চোখে পড়লে কেউ দ্বিতীয়বার ফিরে তাকাবে না। কিন্তু এই অতি সাধারণ মানুষটির আছে একটি অনন্য সাধারণ মন।। পুলিশে চাকরি করেও মানুষ হিসেবে তিনি একটু বেশিই মানবিক।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার সৃষ্ট চরিত্র শবর দাশগুপ্ত নিয়ে লিখেছেন, ‘ব্যোমকেশ বা ফেলুদার কাহিনী দীর্ঘকাল বাঙালি পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে, তবে প্রাইভেট গোয়েন্দা ব্যাপারটা বাস্তবে প্রায় নেই বললেই চলে।অন্তত তারা কোনো খুন বা তদন্ত করার অধিকারী নয়। তারা বন্দুক পিস্তলও যথেষ্ঠ ব্যবহার করতে পারে না।তাই আমি যখন আনন্দবাজার সংস্থার শারদীয় পত্রিকাতে লেখার জন্য আহূত হই তখন শবর দাশগুপ্ত নামক একটি গোয়েন্দাকে সৃষ্টি করি।’ 

বাংলা সাহিত্যের অধিকাংশ গোয়েন্দা যখন শারীরিকভাবে বেশ ফিট, গড়পরতা বাঙালির তুলনায় বেশ লম্বা এবং তাদের কর্মপদ্ধতি ও আচরণ অনেকটা পাশ্চত্যের আদলে গড়া সেখানে শবর দাশগুপ্ত যেন একেবারে মাছে-ভাতের বাঙালির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। শীর্ষেন্দু নিজেই বলেছেন, ‘শবর খুব লম্বা-চওড়া নয়।’ 

শবরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লেখক বলেছেন , ‘প্রবল শক্তিমান ও সম্পূর্ণ ভয়ডরহীন’।
পুলিশে চাকরি করা এই গোয়েন্দা মদ খায় না এমনকি ধূমপান পর্যন্ত করেন না বলে শবর স্রষ্টা শীর্ষেন্দু পাঠকদের জানান।

তবে নিজের কোনো প্রেমিকা, বউ কিংবা পরিবার না থাকলেও শবর কিন্তু মোটেও কাঠখোট্টা নয়।

শবরের চরিত্রের এ দিকটি সম্পর্কে শীর্ষেন্দু বলেন, ‘সে মোটেও নিষ্ঠুর নয় এবং প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ককেও সে সম্মান করে।’ এরই প্রতিফলন দেখা যায় ‘প্রজাপতির মৃত্যু ও পুনর্জম্ম’ উপন্যাসে। 

শবরের চরিত্রের আরেকটি দিক হলো তিনি অপরাধীদের প্রতি নির্মম নন। বরং মানুষের জীবন যে সাদা-কালোয় মিশেল, কোনো মানুষই একেবারে ধোয়া তুলসিপাতা নন কিংবা সব মানুষই শুধু কর্দমাক্ত মন নিয়ে ঘোরেন না এই বোধটা শবরের আচরণে ফুটে উঠেছে বারবার।
তাইতো ঋণ কিংবা সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে উপন্যাসে শবরকে অপরাধীর প্রতি প্রচ্ছন্ন পক্ষপাত করতে দেখা যায়।

শবরের রহস্য উন্মোচনের ভঙ্গিটিও কিন্তু মোটেও মারকুটে নয়। জটিল কোনো প্যাঁচ কষে কিংবা টুকরো টুকরো সূত্র মিলিয়ে রহস্য সমাধান করতে দেখে না পাঠকরা। শবরের রহস্য উন্মোচনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে কথপোকথন। শীর্ষেন্দু তার এই গোয়েন্দা চরিত্রটিকে দিয়ে প্রচুর বকিয়েছেন! আর কথা বলতে বলতেই শবর দাশগুপ্ত পৌঁছে গেছেন অপরাধীর দোরগোড়ায়।

উপন্যাসের পাতায় শরব

শবর দাশগুপ্তকে শীর্ষেন্দু লিখেছেন মোট আটটা উপন্যাস।

১. ঋণ ২.আলোয় ছায়ায় ৩. সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে৪. প্রজাপতির মৃত্যু ও পুনর্জন্ম ৫. পদক্ষেপ ৬. রূপ ৭. মারীচ ৮. ঈগলের চোখ

রূপালী পর্দায় শরব

উপন্যাসের পাশাপাশি রূপালী পর্দায় কিন্তু সরব পদচারণা রয়েছে শবর দাশগুপ্তের।এ পর্যন্ত গোয়েন্দাকে নিয়ে কলকাতায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি। তিনটিই পরিচালনা করেছেন ওপার বাংলার শক্তিমান পরিচালক অরিন্দম শীল। আর তিনটি চলচ্চিত্রেই শবরের চরিত্রায়ণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শ্বাশত চট্রোপাধ্যায়।

শবরকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো হলো : 

১. এবার শবর (ঋণ উপন্যাস অবলম্বনে ২০১৫ সালে নির্মিত) ২. ঈগলের চোখ (একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ২০১৬ সালে নির্মিত)৩. আসছে এবার শবর (প্রজাপ্রতির মৃত্যু ও পুনর্জন্ম অবলম্বনে ২০১৮ সালে নির্মিত)

* উপরের চরিত্র পরিচিতিটি তৈরি করতে শবর দাশগুপ্তের উপর লেখা উপন্যাসসমূহ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার, উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন আর্টিকেলের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

* লেখক: কারুননাহার এ্যামি

কারুননাহার এ্যামি
কারুননাহার এ্যামি

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড