ঘাউরামির খেসারত
  1. news-desk@nongor.news : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  2. niloy@nongor.news : Creative Niloy : Creative Niloy
  3. nisan@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  4. mdashik.ullah393@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. sultanashaila75@gmail.com : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  6. ronia3874@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. sarowar@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
ঘাউরামির খেসারত
রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০২:০০ অপরাহ্ন

ঘাউরামির খেসারত

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৮০ জন পড়েছেন

সৌদি প্রবাসী রফিক দেশে ফিরে সদ্য বিয়ে করেছে। একদিন বিকালে ফুরফুরে মেজাজে রিকশায় চড়ে নতুন বউকে নিয়ে সে শপিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে। হঠাৎ করেই কে যেন রাস্তার অপর পাশ থেকে উচ্চস্বরে ডেকে উঠল, ‘এই রফিক… এই রফিক… ওই মুরগা… কুককু-রুখখুক…!’ 

রফিকের একটা বদভ্যাস আছে, পেছন থেকে কেউ হাজার বার ডাকলেও সে জবাব দেয় না। তবে কেউ ‘মুরগা-কুককু-রুখখুখ’ বলে একবার ডাকলেই সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়। 
মাঝ রাস্তায় হঠাৎ এমন ডাক শুনে নতুন বউয়ের কাছে ইজ্জত পাংচার হওয়ার ভয়ে রফিক বিরক্ত হয়ে জারি দিয়ে রিকশাওয়ালাকে থামতে বলল। এতেই ক্ষেপে উঠল রিকশাওয়ালা। সে রিকশা থামিয়ে রফিকের দিকে তাকিয়ে তার মুখের ওপর বলে উঠল, ‘গরিব বইল্যা কি আমাগো ইজ্জত দিবেন না! কোন ব্যাটা আফনারে ‘ওই মুরগা… কুককু-রুখখুক’ কইয়্যা ডাইকা উঠছে আর আফনে মিয়া রাগ দেহান আমার উফরে!’’ রিকশাওয়ালার মুখেও ‘ওই মুরগা… কুককু-রুখখুুক’ শুনে রফিকের কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হলো। নতুন বউয়ের সামনে রিকশাওয়ালাও ওকে ‘ওই মুরগা… কুককু-রুখখুক’ বলল! কত্তবড় সাহস! অমনি রেগে গিয়ে রফিক ঠাস করে থাপ্পড় বসাল রিকশাওয়ালার গালে। আর তখনই লেগে গেল গণ্ডগোল!

রিকশাওয়ালা রিকশা থেকে নেমে মারমুখী হয়ে রফিকের দিকে এগিয়ে এলো এবং তুইতোকারী করে রফিক ও তার নতুন বউকে রিকশা থেকে নেমে যেতে বলল। নতুন বউয়ের সামনে রিকশাওয়ালার কাছে এভাবে অপমানিত হয়ে রফিক রেগে অগ্নিশর্মা।
হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে রফিকও রিকশাওয়ালাকে পাল্টা গালিগালাজ শুরু করল। হঠাৎ করে এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় রফিকের নতুন বউ হতবাক হয়ে গেল। সে রফিক কিংবা রিকশাওয়ালাÑ কাউকেই থামাতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রিকশা থেকে নেমে পড়ল রফিকের নতুন বউ। কিন্তু রফিক যে নাছোড়বান্দা। সে কোনোভাবেই রিকশা থেকে নামবে না। রিকশা থেকে নামলেই যেন এই বাকযুদ্ধে সাধারণ ওই রিকশাওয়ালার কাছে তার পরাজয় ঘটবে! যা কিছু হয়ে যাক, কোনোভাবেই রিকশাওয়ালার কাছে সে নতিস্বীকার করবে না।
এদিকে আশপাশের উৎসুক জনতা ও কজন রিকশাওয়ালা তাদের চারপাশে জটলা পাকাল। তারা ঘটনা জানতে চাইলে রিকশাওয়ালা উচ্চ স্বরে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে লাগল। ঠিক তখনই এসে উপস্থিত হলো সেই ব্যক্তি, যার কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত। সে আর কেউ নয়, রফিকের বাল্যবন্ধু হাসান। পরিস্থিতি এত ঘোলাটে না হলে হাসানের সঙ্গে এই মুহূর্তেই রফিকের এক দফা হয়ে যেত। কিন্তু রফিক তখন হাসানকে দেখে যেন পায়ের তলার খানিকটা মাটি খুঁজে পেল। সে কোনো রকমে হাসানের কাঁধে ভর দিয়ে এ যাত্রায় উদ্ধার পেতে চাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি ততক্ষণে এতটাই ঘোলাটে হয়ে গেছে যে, রফিকের উপস্থিত জনতার হাতে গণধোলাই খাওয়ার অবস্থা।

অনেক কায়দা কৌশল করে শেষ পর্যন্ত রফিকের নতুন বউয়ের দোহাই দিয়ে হাসান পরিস্থিতি কিছুটা অনুক‚লে নিয়ে এলো।
এবার সবাই চেপে ধরল, রিকশাওয়ালার কাছে রফিককে ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু রফিক কোনো ভাবেই ক্ষমা চাইবে না। রফিকের দাবি, এ ঝামেলার নেপথ্যের আসামি হাসান। যদি ক্ষমা চাইতেই হয়, তাহলে হাসান রিকশাওয়ালার কাছে ক্ষমা চাইবে। অগত্যা বন্ধুর হয়ে রিকশাওয়ালাসহ উপস্থিত সবার কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইল হাসান। কিন্তু তাতে লাভ হলো না। সবার দাবি একটাই, রফিককেই রিকশাওয়ালার হাতে ধরে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় এখান থেকে ওকে যেতে দেওয়া হবে না। কোনো উপায়ান্তর না দেখে রফিকের নতুন বউ স্বামীর ভুলের জন্য রিকশাওয়ালাসহ উপস্থিত সবার কাছে কান্নারত অবস্থায় করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করল। এবার রিকশাওয়ালা নিজেও লজ্জিত হয়ে রফিকের বউয়ের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইল এবং রফিককেও ক্ষমা করে দিল।
ঘোলাটে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে যখন, তখনই ঘটল আসল দুর্ঘটনা। রফিক এবার চড়াও হলো তার নতুন বউয়ের ওপর। উপস্থিত সবার সামনেই সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘তুমি আমার বউ হয়ে রিকশাওয়ালার কাছে ক্ষমা চেয়ে রাস্তার সবার সামনে আমাকে বেইজ্জতি করেছ! যে স্ত্রী রাস্তা-ঘাটে তার স্বামীকে বেইজ্জতি করে, তার সঙ্গে কোনোভাবেই সংসার করা যায় না!’ 

রফিকের এমন কথা শুনে তার বউসহ উপস্থিত সবাই তাজ্জব বনে গেল। রফিকের বউ অপমানে ও মনের দুঃখে বলে উঠল, ‘মানুষ তোমাকে শুধু শুধু মুরগা… কুককু-রুখখুখ’ বলে না। তুমি আসলেই ঘাউরা। তোমার সঙ্গে আমিও মনে হয় সংসার করতে পারব না!’ 
বউয়ের মুখের কথা শেষ হতে না হতেই রফিক চরম উত্তেজিত হয়ে সবার সামনেই বউকে তিন তালাক দিয়ে বসল। উপস্থিত জনতা নিজেদের রাগ আর সামলে রাখতে পারল না। সবাই মিলে রফিককে এক প্রকার গণধোলাই দিয়ে হাসপাতালে পাঠাল। ওদিকে রফিকের নতুন বউ তার বাপের বাড়িতে চলে গেল।

রফিক সুস্থ হয়ে কিছুদিন পর কজন মুরুব্বি আর একজন হুজুর নিয়ে বউকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি হাজির হলো। রাগের মাথায় তিন তালাক দিলেও রফিকের বউ আর ফিরে এলো না। শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ওকে চরম অপমান করে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। তাই বলে ঘাড়ত্যাড়া রফিক এতো সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না। যেহেতু হাসানের কারণে এই গন্ডগোল বেঁধেছে, তাই বউকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে রফিক হাসানের শরণাপন্ন হলো। হাসানকেই সবকিছু ঠিকঠাক করার দায়িত্ব নিতে হবে। রফিকের সাফ কথা!
বন্ধুর দুরাবস্থা দেখে হাসানও দায়িত্ব নিল। রফিকের বউয়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ শুরু করল সে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে তারা দেখাও করতে লাগল। এভাবে প্রায় দুই মাস কেটে গেল। এদিকে রফিকের ছুটি প্রায় শেষ। সৌদি ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। রফিকের পরিবার থেকে আবারও তার শ্বশুরবাড়িতে যোগাযোগ করলে তারা খানিকটা নমনীয় হলো। রফিকের বউকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্র“তিও দিল। পরদিন রফিক তার বউকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখে তার বউ একটি চিরকুট লিখে পালিয়ে গেছে! রফিক চিরকুট পড়ে জ্ঞান হারানোর আগে অস্ফুট স্বরে বলে উঠল, ‘ভুল করে শিয়ালের কাছে মুরগি ভাগি দিয়েছিলাম!’ মানে যে যুবকের হাত ধরে তার বউ পালিয়েছে, সে আর কেউ নয়Ñ রফিকেরই সেই বাল্যবন্ধু হাসান।
চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, ঢাকা।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

টুইটারে আমরা

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড