গোমস্তাপুরের এক প্রতিবন্ধী মেয়ের কিছু কথা – দৈনিক নোঙর – আপোষহীন চিন্তার সাথে গোমস্তাপুরের এক প্রতিবন্ধী মেয়ের কিছু কথা – দৈনিক নোঙর – আপোষহীন চিন্তার সাথে
  1. news-desk@nongor.news : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  2. niloy@nongor.news : Creative Niloy : Creative Niloy
  3. nisan@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  4. mdashik.ullah393@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. sultanashaila75@gmail.com : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  6. ronia3874@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. sarowar@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

গোমস্তাপুরের এক প্রতিবন্ধী মেয়ের কিছু কথা

সারোয়ার
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৭ জন পড়েছেন

প্রতিটি মানুষের ভিতরে কিছু প্রতিভা লুকিয়ে থাকে সেই প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী গ্রামের এক প্রতিবন্ধী মেয়ে মোসাঃ মোয়াজ্জেমা খাতুন।

তার কিছু কথা,ছোট বেলা থেকেই আমি খেলাধুলা পছন্দ করি। আমি বাংলাদেশ নারী হুইলচেয়ার ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন ও সাভারের পক্ষাঘাত গ্রস্তদের পূর্নবাসন কেন্দ্রীর সিআরপি হুইলচেয়ার নারী বাস্কেটবল দলের একজন প্লেয়ার।আমাদের টিম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যান নেপালে সেই সাথে ইন্দোনেশিয়ার নারী হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলকে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে হারিয়ে শিরোপা জিতে দলটি। আমি টেলিভিশনে খেলা দেখলে আমার ভাবিরা বলত যে,খেলা দেখে কি হবে,তুমি তো কখনই খেলতেই পারবে না, তোমার দ্বারা তো কিছুই সম্ভব না। তখন আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরতো, তাদের কথা শুনে মনে মনে ভাবতাম, তোমাদের আমি খেলাধুলা করে দেখিয়ে দিবো যে আমিও পারি,ঠিক তখন থেকেই আমি চেষ্টা করতে থাকি।

আমার পরিচিত নারী হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় মিতুর সাথে এ নিয়ে কথা বললে, সে বলে স্যারের সাথে কথা বলে জানাবে।বেশ কিছু দিন পরে মিতু বাস্কেটবল টিমের কোচ বুলবুল স্যারের নাম্বার সহ আমাকে এসএমএস দিয়ে বলল, আমাদের টিমে নতুন প্লেয়ার নিবে তুমি স্যারের সাথে যোগাযোগ কর। আমি আমার সম্পর্কে বুলবুল স্যারকে সব কিছু বললাম। আমার বাসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ তাই স্যার বলল যেহেতু তোমার বাড়ি দূরে তাই তোমাকে আমরা এই মূহুর্তে ডাকতে পারছি না। এই কথা শুনে আমি নিরাশ হয়ে গেলাম! বেশ কিছু দিন পরে হঠাৎ একদিন বুলবুল স্যার আমাকে কল দিয়ে বলল, ১২ তাং আমাদের ক্যাম্প আছে তুমি চলে আস। স্যারের এই কথা শুনে আমি খুব খুশি হলাম।

এইভেবে যে,হয়তো আশার আলো ধরা দিচ্ছে। বিষয়টা বাড়ির সবাইকে জানাতেই অনেক বাধা বিপত্তি কারণ তারা সেটা পছন্দ করত না! আমি আম্মাকে খেলার বিষয়ে বললাম, তখন আম্মা আমাকে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দিল তাই আমি ১১ তাং সকাল ৮টায় সাভার সিআরপির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পরের দিন সকালে আমি আমার ইউনিফর্ম পরে যখন মাঠে যাচ্ছিলাম তখন মনে মনে ভাবছিলাম যে,আমি কি সত্যিই খেলোয়াড়! মাঠে গিয়ে স্যার আমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল সেখানে আরও নতুন প্লেয়ার আছে।আমি মনে সাহস ও নতুন সহপাঠী পেলাম। স্যার আমাদেরকে খেলাধুলার নিয়মকানুন শিখালো এবং সিনিয়র সহপাঠীরাও আমাকে সহযোগিতা করল। এই ভাবে কয়েকটা টুর্নামেন্ট খেললাম।

একদিন হঠাৎ এ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার সেলিম রহমান স্যার, আমাদেরকে জানাল,০৫/১২/২০১৯ তারিখে মাননীয় স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়েদের বাস্কেটবল খেলা দেখতে আসবেন।আমি তো সেই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ আমার এলাকার কোথাও যদি মাননীয় স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী আসেন আমি তো চোখের দেখাটাও দেখতে পাবো না প্রতিবন্ধী বলে!! আর সে আমি খেলোয়াড় হয়ে তার হাতে পুরস্কার নিবো! কেন জানি ভাবতেই অবাক লাগছে।ফাইনাল খেলার দিন আমরা সবাই প্রস্তত হয়ে মাঠে গেলাম।তখন আমাদের দলের একটাই চিন্তা কিভাবে আমাদের দলকে উইনার করা যায়।শেষমেষ, সেই খেলায় আমরা জয় লাভ করি। উইনার হওয়ার সাথে সাথেই সবাই মাঠে এসে আমাদের অভিনন্দন জানাল।সেই মূহর্তটার আনন্দ কি তা বলে শেষ করা যাবে না।

মাননীয় স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী যখন আমার হাতে ট্রফি তুলে দিল, তখন আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি! কেন জানি মনে হচ্ছে আমি কি সত্যিই পেরেছি!! মাননীয় স্পিকারের একটা কথা আমার কানে বাজে তোমাদের খেলা আমি খুব মনযোগ সহকারে দেখেছি আমি যেন চোখের পলক ফেলতে চায়নি, কারণ চোখের পলক ফেললে আমি যেন কিছু মিস করে ফেলবো। আমি খুব আনন্দিত হয়েছিলাম, যে আমার প্রথম খেলার প্রথম সম্মানীর টাকায় আমি আমার আম্মাকে শাড়ী উপহার দিতে পেরেছি। আমার আম্মা আমাকে সাপোর্ট না করলে হয়তো আমার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত।এভাবেই আমার এগিয়ে চলা।আজ এই জায়গায় আসতে আমাকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। ২০২০ সালে দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু করোনার জন্য যাওয়া সম্ভব হলো না।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

টুইটারে আমরা

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড