রংপুর সদরের পালিচড়া হাটের পাশে একটি আম গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজু মিয়া নামে এক ব্যক্তি’র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) নির্মাণাধীন বাড়ির ভেতর একটি গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে রাজু আত্মহত্যা করেছে। তবে মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের পাইকারেরহাটে রাজু মিয়ার বাড়ি। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। কিন্তু মেয়ের বিয়ে, ছেলের লেখাপড়ার পেছনে খরচ করে আর্থিক টানাপোড়েনে পড়লে স্ত্রী সন্তান তাকে ছেড়ে যায়। তাদের আচরণে তীব্র কষ্ট থেকে রাজু মিয়া আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
জানা গেছে, ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে রাজু মিয়া রংপুর শহরে শেষ সম্বল একটি বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দেন। মেয়ের বিয়ের পর আর্থিক সংকটে পড়লে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছেলের লেখাপড়া করাতে এক পর্যায়ে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নাইট-গার্ডের চাকরি করেন। কিন্তু হঠাৎ দুর্ঘটনায় তার একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজু ফিরে এসে চরম দুরবস্থায় পড়েন। পরে স্ত্রী সন্তানের কাছে সাহায্য চেয়ে পাননি তিনি। এতে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন রাজু। অবশেষে শুক্রবার ভোরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, এলাকার লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে রাজু মিয়ার মরদেহটি একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ভেতর গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পান। তিনি বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন। এলাকাবাসী, নিহতের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ ও সেইসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রাজুর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের খোঁজ পায়নি।
সূত্রঃ সময় নিউজ