দ.কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল
  1. news-desk@nongor.news : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  2. niloy@nongor.news : Creative Niloy : Creative Niloy
  3. nisan@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  4. mdashik.ullah393@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. sultanashaila75@gmail.com : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  6. ronia3874@gmail.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. sarowar@nongor.news : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
দ.কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

দ.কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮৪ জন পড়েছেন

দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন তিনি।

জুলাইতে স্থানীয় আদালত পার্ককে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে তিনি সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত ১০ বছরের সাজা কমিয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ১ হাজার ৮০০ কোটি উয়ন জরিমানা বহাল রাখেন। রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা সাজা কমানোর বিরোধিতা করছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট পার্ক। ২০১৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন পার্ক। তারপর সাবেক এ প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপব্যহার এবং জুলুম নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। প্রাথমিকভাবে তাকে ৩০ বছরের জেল এবং ২ হাজার কোটি উয়ন জরিমানা করা হয়।

পরে উচ্চ আদালত দুর্নীতির দায়ে জরিমানার পাশাপাশি তার কারাদণ্ড কমিয়ে ১৫ বছর ঘোষণা করেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দেন আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড।

যে কারণে দোষী পার্ক?
২০১৮ সালে ১৮টি অভিযোগের মধ্যে ১৬টিতে দোষী সাব্যস্ত হন পার্ক। যার অধিকাংশই ঘুষ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংশ্লিষ্ট।

আদালত জানান, পার্ক গিউন হাইয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চোয়ে সুন সিল। চোয়ে পরিচালিত ফাউন্ডেশনের জন্য লাখ লাখ উয়ন দাবি করে ইলেক্ট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং এবং রিটেইল চেইন লোট্টের উপর চাপ তৈরি করে পার্ক।

চোয়ের মালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি, তাকে এবং তার মেয়েকে মূল্যবান উপহার দেয়ার জন্য বিভিন্ন কোম্পানিকে চাপ দেয়ায় দোষী হন পার্ক। ওই সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য চোয়ের কাছে ফাঁস করার জন্য অভিযুক্ত হন পার্ক।

নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

পার্কের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং উপদেষ্টা চোয়ে সুন সিল (মাঝে)

যে কারণে ক্ষমতাচ্যুত হলেন পার্ক?
পার্কের বাল্যকালীন ঘনিষ্ঠবন্ধু চোয়ের সঙ্গে সম্পর্কই তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মূল কারণ। ঘনিষ্ঠবন্ধু চোয়ে রাতারাতি পার্কের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হয়ে উঠেন।

পার্কের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে চোয়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে চরমভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন। তাদের এ সম্পর্ক তখন জনগণের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

দীর্ঘ শুনানি এবং রাজপথের বিক্ষোভের পর আন্দোলন থেকে পার্কের পদত্যাগের দাবি উঠে। ২০১৭ সালের মার্চে চূড়ান্তভাবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তারপরই পার্ক গ্রেফতার হন।

দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে চোয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়।

মামলায় আরও যারা জড়িত
দুর্নীতির ওই কেলেঙ্কারিতে নাম উঠে আসে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় কোম্পানি এবং তার শীর্ষ কর্তাদের। বাদ যায়নি দেশটির বিনোদন জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিও। উঠে আসে সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামও।

স্যামসাংয়ের ডি ফ্যাক্টো লিডার লি জায়ে ইয়ং যিনি জায় ওয়াই লি চোয়ের মেয়ে চুং ইউ রা’কে ঘুষ হিসেবে একটি ঘোড়া উপহার দিয়েছিলেন। সত্যতা পাওয়ার পর তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৫ মাস জেল খাটার পর আপিল বিভাগ তার শাস্তি কমিয়ে সাজা বাতিল করে দেন।

চুংকেও তদন্তের মুখোমুখি হতে যায়। ২০১৭ সালে ডেনমার্ক থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় আনা হয়।

২০১৮ সালে আদালত চত্বরের বাইরে পার্কের মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের বিক্ষোভ

দক্ষিণ কোরিয়ায় কি এ ঘটনা বিরল?
সাবেক সামরিক একনায়কের মেয়ে পার্ক। দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন লি মায়ুং-বাক। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ২০১৮ সালে তিনি অভিযুক্ত হন।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন চুন ডু-হাওয়ান। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন রোহ তাই-উ। ১৯৯০ সালে দু’জনই রাষ্ট্রদ্রোহ এবং দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।

রোহ তাই-উ ২০০৯ সালে আত্মহত্যা করেন। তখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছিল।

কি হবে পার্কের?
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী নেত্রী এখন কারাগারে ২২ বছরের সাজা ভোগ করছেন। নির্বাচনী আইনভঙ্গের দায়ে অতিরিক্ত দু’বছর কারাদণ্ড হয় তার।

ঘুষ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন তার ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনার দ্বার প্রশস্ত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় তার এখনো অনেক সমর্থক রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের এক শীর্ষ সহযোগী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জনগণের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে সাবেক প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পাওয়ার বিষয়টি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পার্ক এখনো প্রভাশালী ব্যক্তি। গেল সপ্তাহে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান পোলস্টার রিয়েলমিটার জানায়, ৪৭ শতাংশ দক্ষিণ কোরীয় পার্কের মুক্তি চান। বিরোধিতা করেছেন ৪৮ শতাংশ।

সূত্রঃ সময় নিউজ

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড