চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

46

আজ ‘বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস’। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিউমোনিয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি এক ঘণ্টায় তিনটি শিশু মারা যায়। এই হিসাবে প্রতিদিন ৬৭, আর প্রতি বছর ২৪ হাজার ৩০০ শিশু মারা যায় এই রোগে। দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা, ততটা পাচ্ছে না।

গত দুই দশকে স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। শিশুর মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এখনও নিউমোনিয়ার কারণে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ২৪ হাজার ৩০০ শিশু মারা যাচ্ছে।

২০১১ সালে দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি এক হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ১১ দশমিক ৭টি শিশু মারা যেতো নিউমোনিয়াতে। আর বর্তমানে সেই সংখ্যা ৮ দশমিক ১। কিন্তু বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি এক হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা তিনটিতে নামিয়ে আনতে হবে।

রিসার্চ ফর ডিসিশন মেকার্স (আরডিএম) এবং ডেটা ফর ইমপ্যাক্ট (ডিএফআই) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশে যেসব শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়, তার ৫২ শতাংশই মারা যাচ্ছে বাড়িতে। তারা কোনও ধরনের চিকিৎসাও পায় না। অপরদিকে, তিন শতাংশ শিশু চিকিৎসা পেয়েও বাড়িতে মারা যাচ্ছে। আবার হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার পরেও নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে ৪৫ শতাংশ শিশু। তাই নিউমোনিয়ার লক্ষণ চিহ্নিত শিশুদের বাড়িতে রাখা উচিত নয়।

নিউমোনিয়াতে শিশুরা হাইপোক্সেমিয়ায় (রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা) বেশি মারা যায়। কোভিডের সময় এটা আরও বেশি। যেসব শিশুর অক্সিজেনের স্বল্পতা থাকে, তাদের নিউমোনিয়ায় মৃত্যুহার বেশি। তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পালস অক্সিমিটার থাকা জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিউমোনিয়ায় মৃত্যু কমাতে হাসপাতালগুলোতে ১০টি বিষয় নিশ্চিত করার কথা বলেছে। কিন্তু ২০১৭ সালে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জেলা হাসপাতালগুলোতে এই ১০টি বিষয়ের শতভাগের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ রয়েছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ও শিশু নিউমোনিয়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রুহুল আমিন জানান, দেশে পাঁচ বছরের শিশুদের মৃত্যুর মধ্যে নিউমোনিয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারণ। আর এ মৃত্যু প্রতিরোধের বড় উপায় জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো। ছয় মাস পর থেকে মায়ের বুকের দুধের সঙ্গে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়াতে হবে।

নিউমোনিয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশ দূষণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ন্ত্রণে আনা খুব জরুরি। একইসঙ্গে নিউমোনিয়ার উপসর্গ থাকলে শিশুকে বাড়িতে না রেখে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিকভাবে শিশুকে নিউমোনিয়ার ওষুধ খাওয়ানো গেলে মৃত্যু রোধ করা যাবে।’

আইসিডিডিআর,বি’র পুষ্টি ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিস বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি বলেন, ‘নিউমোনিয়ায় মৃত্যু প্রতিরোধের আগে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে হবে। যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে নিউমোনিয়ায় তাদের মারা যাওয়ার ঝুঁকি যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে না, তাদের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। আর আমাদের দেশে অভিভাবকরা ডায়রিয়া হলেও সচেতন হন, কিন্তু নিউমোনিয়া হলে সচেতন হন না।’