শিবগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর এমপি শিমুলের লোকজনের হামলা : আহত বেশ কয়েকজন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের লোকজন বলে জানা গেছে। হামলায় ৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। হামলায় ৮/১০টি মোটরসাইকেলসহ উপজেলা পরিষদের ৩টি কক্ষে ব্যপক ভাংচুর চালানো হয়।

আহতরা হলেন, শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলীরাজ, মনাকষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আলী, সভাপতি এম ইমরান খান, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল, উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক জুলকার নাইম।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শেষে দুপুর দেড়টার দিকে ৪০ দিনের কর্মসূচি, কাবিখা, মাতৃত্বকালীন প্রকল্প, ইজিপিটিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার এক পর্যায়ে ৪০ দিনের কর্মসূচির বিষয়ে মনকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদৎ হোসেন খুররম প্রকল্পের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজের দাবি জানান ও এমপির জন্য অধিক বরাদ্দ হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করেন।

এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সকলের উপস্থিতিতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের অনুসারী সারোয়ার জাহান মুকুল বলেন, এখানে এমপি যায় বলবে, সেটাই হবে। প্রকল্পের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কারো কোন কথা শোনা হবে না। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এমপি শিমুলের অনুসারী সারোয়ার জাহান মুকুল, বাহাদুর, কালাম, শহিদুল ও আপেল মাস্টারসহ কয়েকজন মিলে হামলা চালায়।

এতে উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলার ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষসহ ৩টি কক্ষে ব্যপক ভাংচুর চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় কম্পিউটার, জানালা, চেয়ার-টেবিল সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র।

হামলার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বি, সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যানগণ, পৌর মেয়র কারিবুল হক রাজিনসহ উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন উপস্থিত ছিলেন।

ঘন্টাব্যাপি চলা হামলায় শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ, মনাকষা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম, সভাপতি এম ইমরানসহ আরও কয়েক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু কয়েক দফায় এমপি শিমুলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ ভবনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি বেগমের জানালা ভাঙচুর করে।

বিকেল ৩টার পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইকবাল হোছাইন পিপিএম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ জানান, শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক আলি রাজ ও মনাকষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম, সভাপতি ইমরানসহ ছাত্র লীগের উপর শিবগঞ্জ পৌরসভার নৌকা বিরোধী মেয়র তার সন্ত্রাসী বাহীনি দিয়ে রক্তাক্ত হামলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সেই সাথে নৌকাদ্রোহী মেয়রের সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহীনি ও তার ইন্ধন দাতাকে অতিদ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনের শৃঙ্খলা বাহীনির কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভি আলম রানা বলেন, শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিনের প্রকাশ্য হুকুমেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যা ন্যাক্কারজনক।

মনাকষা ছাত্রলীগের সভাপতি এম ইমরান খান জানান, আমরা মোট ৬ জন ছিলাম। এ জন্য আমাদের উপর উপুর্যুপরি হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে।

তবে মুঠোফোনে এ বিষয়ে এমপির লোকজনের হামলার কথা অস্বীকার করেন মেয়র রাজিন। এ ঘটনায় রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত কোন অভিযোগ হয়নি বলে জানান, শিবগঞ্জ থানার বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. শামসুল আলম শাহ।- কপোত নবী।