নিউইয়র্ক ছাড়ছেন ট্রাম্প

52

নিউইয়র্ক ছেড়ে ফ্লোরিডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হওয়ায় সেখানকার ভোট টানতেই সেখানে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

বিশেষ করে আগামী ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্লোরিডার ২৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট কবজা করতে হবে। গত ১০০ বছরে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে এই ফ্লোরিডায় জয়লাভ ছাড়া হোয়াইট হাউস দখল করা সম্ভব হয়নি। ট্রাম্পের পক্ষেও সম্ভব হবে না।

২০১৬ সালে তিনি ১ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়েছিলেন, ফলে সংগত কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্য ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী।

অধিকাংশ জনমত জরিপ অনুসারে, এখানে ট্রাম্প ও বাইডেন সমানে সমান লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ফাইভথার্টিএইট জানাচ্ছে, এ মুহূর্তে ট্রাম্পের তুলনায় ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন ৪৮: ৪৬। ভিন্ন জরিপে অবশ্য এ ব্যবধান আরও কম, কোনোটিতে ট্রাম্প সামান্য এগিয়ে।

এই অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোটে ভালোভাবে এগিয়ে থাকায় বাইডেন বেশ স্বস্তিতে ছিলেন, কিন্তু এখন সে স্বস্তিভাব কিছুটা হলেও বদলে গেছে। গত সোমবার থেকে ফ্লোরিডায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আগাম ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুসারে রিপাবলিকানরা বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়া শুরু করেছেন।

এই রাজ্যের ডানঘেঁষা কিউবান ভোটারদের অধিকাংশ ট্রাম্পের পক্ষেই ভোট দেবেন বলে ভাবা হচ্ছে।ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য দাবি করছেন, গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পুয়ের্তোরিকো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশ বাইডেনের পক্ষেই ভোট দেবেন।

জো বাইডেনের জন্য ফ্লোরিডা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই অঙ্গরাজ্য ছাড়াও তাঁর পক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট অর্জন সম্ভব। ফ্লোরিডার চেয়েও তাঁর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল দেয়াল’ হিসেবে পরিচিত পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিন।

গত নির্বাচনে এই তিন রাজ্যেই অল্প ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্প জয়লাভ করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। বাইডেন এই মুহূর্তে এখানে ট্রাম্পের তুলনায় নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে।২০১৬ সালে এই তিন রাজ্যে নিজের জয়ের ব্যাপারে হিলারি এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি সেখানে কার্যত কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেননি। বাইডেন অবশ্য সে ভুল করছেন না।