প্রত্যাবাসনই মূল সমাধান, এলো ৬০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি

66

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে একটি সেনা চৌকিতে হামলার জেরে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এছাড়া বিভিন্ন সময় পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ে আছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

মিয়ানমারে সরকারের টালবাহানা এবং রাখাইনে নিরাপদ পরিস্থিতি না ফেরানোয় এখনো বাংলাদেশে আশ্রয়ে লাখো রোহিঙ্গারা। এমন পরিস্থিতি করণীয় নিয়ে (বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বসেন। বৈঠক থেকে বাংলাদেশে আশ্রয়রত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে দাতা দেশ এবং সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় ২০২০ সালের জন্য ১০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। তার অর্ধেক অর্থ না আসার প্রেক্ষাপটেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এদিকে নতুন করে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার এবং ব্রিটেন ৬ কোটি ডলারের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।সম্মেলনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, সর্বমোট ৫৯৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সংকটে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তার জোরাল অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

যদিও আন্তর্জাতিক জোটেনের নেতারা মনে করে, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল সমাধান প্রত্যাবাসনেই। তাই এ বিষয়েই বেশি জোর দিতে হবে। তবে রাখাইনের চলমান সংঘাত প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে উদ্বেগ জানান তারা। এর আগে গত তিন বছরে রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সহায়ক পরিবেশ তৈরি না করায় একজন রোহিঙ্গাও সেখানে ফিরতে পারেনি। 

বাংলাদেশের কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের তথ্য মতে, ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এছাড়া আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিয়ে কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এসব শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি।