দ্বিতীয় মেয়াদে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা

36

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন দেশটিতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় নির্বাচনে তার দল সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। এবারের নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। জাসিন্ডার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেন্টার রাইট ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

দেশটিতে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনি পদ্ধতি পরিবর্তন হওয়ার পর এটি কোনো রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় বিজয়। একই সঙ্গে দেশটিতে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে  জেসিন্ডার দল গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

জেসিন্ডা এটিকে ‘শক্তিশালি বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে।দেশটির জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত মাসে। কিন্তু করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের আশঙ্কায় একমাস পেছানো হয়। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডই একমাত্র করোনা মুক্ত দেশ। যার জন্য গোটা বিশ্বে প্রসংশিত হয়েছে জেসিন্ডা সরকার।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জায়গা পাওয়া সেন্টার রাইট ন্যাশনাল পার্টি ২০০২ সালের পর কোনো বিরোধী দল হিসেবে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের পদাংক অনুসরণ করে ১৮৯৪ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নারীরা ভোটাধিকার লাভ করে। ব্রিটেনের নারীরা ভোটাধিকার পায় ১৯১৮ সালে, আমেরিকায় ১৯২০ সালে। আর অবিভক্ত বাংলার নারীরা ভোটাধিকার পায় ১৯৩৫ সালে। আর সবশেষে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নারীরা প্রথমবারের মতো পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।নির্বাচনের একটি মূল অনুষঙ্গ প্রচার-প্রচারণা। শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ডে নির্বাচন উপলক্ষে কোনো মিছিল, মিটিং, মাইকিং, স্লোগান এসব কিছুই হয় না।

শুধু টেলিভিশন, খবরের কাগজে কিছু আলোচনা, বিতর্ক আর রাস্তার কোথাও কোথাও থাকে প্রার্থীদের প্ল্যাকার্ড। সাধারণ প্রার্থী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সব প্রার্থীই নিজের হাতে সীমিত আকারে লিফলেট বিতরণ করেন। নির্বাচনী সমাবেশ দু’একটি হলেও তা হয় নির্দিষ্ট কোনো জায়গায়, কারো কোনো কষ্টের উদ্রেক না করে।

এবার আসি নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে। শান্ত নিরিবিলি এই দেশটির জাতীয় নির্বাচনে সবাই দুটি করে ভোট দিতে পারে। এর মধ্যে একটা প্রার্থীর জন্য, অন্যটা দলের জন্য। কারণ দলের জন্য ভোটার যে ভোট দেন তার মাধ্যমেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। নিউজিল্যান্ড সংসদে আসন সংখ্যা ১২০টি। তারমধ্যে ৭২টি আসন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয় এবং বাকি ৪৮টি আসন নির্বাচিত হয় দল কত শতাংশ ভোট পেলো তার ভিত্তিতে।