আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

46

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চাই এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করা।

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বাসস।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় উল্লেখ করে স্টিফেন ই বিগান বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১১ লাখেরও বেশি লোক বাংলাদেশে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা। সমস্যাটি মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং আমরা তাদের সঙ্গে সংলাপ করছি- তাদের উচিত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া।’

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটি সামাজিক সমস্যা এবং মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত নাগরিক কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরগুলোয় বাস করছে। তিনি বলেন, ‘কিছু মহল অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে তাদের ভুলপথে চালিত করতে পারে। সুতরাং আমরা অবিলম্বে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন।

এ বিষয়ে স্টিফেন ই বিগান জানান, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা সেবা আবার চালু করা হবে। বুধবার বাংলাদেশ সফরে আসা মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার : মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কোভিড-১৯ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র টিকা উৎপাদন করলে তার বিতরণে বাংলাদেশের প্রাপ্যতার বিষয় বিবেচনা করা হবে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন বিষয়ে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখবে দুই দেশ।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। স্টিফেন বিগান বলেন, বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিবিড়ভাবে কাজ করে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে আমি বুধবার রাতে বৈঠক করেছি। বিগান বলেন, কোভিড-১৯বিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করবে। টিকা উদ্ভাবন হলে তার বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে যোগ দেবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে নতুন কনসুলেট চালু করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য এই কনসুলেট কাজ করবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের অনুরোধে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি আইনি বিষয়। আইনগত পর্যালোচনা করার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। তবে তিনি এও বলেন যে, এই বিষয়টি তার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। তাই এটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিগান।বেইগানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য সচিব, পিপিপি’র সিইওসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপস্থিত ছিলেন। ভারত সফর শেষে দু’দিনের সফরে বুধবার বিগান ঢাকায় আসেন। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বাংলাদেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন। ১০০ ভেন্টিলেটর দেবে আমেরিকা : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেছেন, আমেরিকা বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। দেশের যে কোনো দুর্যোগে আমেরিকা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।

এবারের কোভিড মোকাবেলা করতেও আমেরিকা বাংলাদেশের সার্বিকভাবে নানা খাতে সহায়তা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকা বাংলাদেশের কোভিডসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দিতে নতুন ও অত্যাধুনিক অন্তত একশটি ভেন্টিলেটর দেবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যান্টিলেটর মেশিন ও গ্যাস অ্যানালাইজার মেশিন হস্তান্তর সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেই দেশের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ডেপুটি সেক্রেটারি মি. স্টেফেন এডওয়ার্ড বিগান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএসএ অ্যাম্বাসেডর মি. আর্ল আর মিলারসহ অন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দুটি অতি উন্নত গ্যাস অ্যানালাইজার মেশিন হস্তান্তর করেন ইউএসএ ডেপুটি সেক্রেটারি স্টেফেন এডওয়ার্ড বিগান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএসএ অ্যাম্বাসেডর মি. আর্ল আর মিলার।