যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করলেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

36

নাগোরনো-কারাবাখের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ-সংঘাতে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান।

সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী এখনও ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এদিকে, চলমান এই যুদ্ধ বন্ধ করতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক ও রাশিয়া।

বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া এক ভাষণে পাশিনিয়ান বলেন, আর্মেনিয়ায় ‌‌‌‌‌‌‘বহু হতাহত’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সকল ভুক্তভোগী, শহীদ, তাদের পরিবার, বিশেষ করে শহীদদের মায়েদের উদ্দেশ্যে নতজানু হয়ে সম্মান জানাই। তাদের এই ক্ষতিকে আমি আমার ও আমার পরিবারের ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করছি।’

তিনি বলেন, ‌‌‌‘আমাদের সবার জানা প্রয়োজন যে আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতি পার করছি।’

পাশিনিয়ান বলেছেন, জনশক্তি ও উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হলেও আর্মেনিয়ার সেনারা এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং প্রতিপক্ষের জনশক্তি ও উপকরণের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জয়ী হতেই হবে, আমাদের বেঁচে থাকতেই হবে। আমাদের নিজেদের ইতিহাস তৈরি করতে হবে। আর আমরা এর মধ্যেই ইতিহাস তৈরি করছি।

আমাদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের গল্প, আমাদের মহাকাব্য তৈরি হয়েছে।’এদিকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ অভিযোগ তুলেছেন, আর্মেনিয়া তাদের গ্যাস ও তেলের পাইপ লাইনে আক্রমণ করেছে।

তুরস্কের প্রচারমাধ্যম হেবারতুর্ককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আর্মেনিয়া আমাদের পাইপলাইন আক্রমণ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা যদি সেখানকার পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমি বলতে পারি যে এর পরিণতি গুরুতর হবে।’

অপরদিকে এই দু’দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বুধবার নিজেদের মধ্যে ফোনে আলোচনা করেছেন।ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতা বন্ধ করার লক্ষ্যে অতি দ্রুত যৌথ উদ্যোগ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নাগোরনো-কারাবাখ দ্বন্দ্বের সমাধান করার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন তারা।

নাগোরনো-কারাবাখ হচ্ছে ৪ হাজার ৪শ বর্গ কিলোমিটার (১ হাজার ৭০০ বর্গ মাইল) আয়তনের একটি পর্বতাঞ্চল।ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আর্মেনিয়ান এবং মুসলিম তুর্কদের আবাসস্থল।সোভিয়েত আমলে আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পায় এটি।

আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হলেও জনসংখ্যার অধিকাংশই জাতিগত আর্মেনিয়ান।১৯৮৮-১৯৯৪ সালের যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয় এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। ১৯৯০ সালের যুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী আজারবাইজানের কাছের ছিটমহলের কাছে কিছু জায়গা দখল করে।১৯৯৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে অনেকটাই অচলাবস্থা বিরাজ করছিল।

তুরস্ক প্রকাশ্যেই আজারবাইজানকে সমর্থন দিচ্ছে। অপরদিকে, আর্মেনিয়ায় রাশিয়ার সেনাঘাঁটি রয়েছে।