শিশুর জন্মগত ছানি অপারেশনে বিলম্ব করলেই ক্ষতি

35

জন্মগত ছানি ও আঘাতজনিত কারণে দৃষ্টি শক্তি হারাচ্ছে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু। ছানির তীব্রতাভেদে ১০ থেকে ৮০ ভাগ পর্যন্ত দৃষ্টিশক্তি কমে গেলেও অনেকক্ষেত্রে বুঝতেই পারেন না অভিভাবকরা। তাই লক্ষণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শিশুর চোখের ছানি অপারেশনে অভিভাবকদের সতর্ক হবার আহ্বান চিকিৎসকদের। শিশুদের মধ্যে অন্ধত্বের প্রকোপ কমাতে স্কুল শুরুর আগেই প্রতিটি শিশুর চোখের পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

চলছে জন্মগত চোখের ছানি অপারেশন। রাজধানীর ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে মাত্র ৭ মাসের শিশুর চোখের ছানি অপারেশন করছেন চিকিৎসকরা। চোখের মনি সাদা হয়ে যাওয়া শিশুর সম্পূর্ণ দৃষ্টি শক্তি ফেরাতে জরুরী ছানি অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক।জন্মগত ছানি ছাড়াও চোখে নানা ধরনের আঘাতজনিত কারণে ছানি পড়ে শিশুর চোখে। অনেকক্ষেত্রে স্টেরয়েড জাতীয় চোখের ড্রপ নিয়মিত ব্যবহারের কারণেই চোখের ছানি পড়ে শূন্য থেকে ১৬ বয়সী শিশুর চোখে।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ও কনসালট্যান্ট ডা. মোমিনুল ইসলাম বাধন বলেন, ‘এই অপারেশনগুলো যদি দ্রুত করা না হয় তাহলে দৃষ্টিশক্তি সারাজীবনের জন্য চলে যেতে পারে।’চোখ সাদা বা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করলে, দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার আহ্বান চিকিৎসকদের।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর ও শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী ইফতেখার সাজ্জাদ অপু বলেন, ‘অনেকের ভেতর একটা ভুল ধারণা শিশু বড় হোক তারপর যা করার করবে। কিন্তু দেরি যত করা হবে দেখার সম্ভাবনা ততই কমে যাবে।’শিশুর চোখের ছানি, আরওপিসহ জটিল সমস্যা সমাধানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারকে সহায়তা করছে দেশী বিদেশী সংস্থা। তবে অন্ধত্বের হাত থেকে শিশুদের বাঁচাতে সরকারকে প্রান্তিক পর্যায়ে চক্ষু পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

অরবিজ ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালকে ইকুইপ্ট করেছি টিমকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’গত বছর শুধু একটি হাসপাতালে ১৪০০শ’র বেশী শিশুর চোখের ছানি অপারেশন করা হয়েছে। চোখে ছানি পড়ার পর যত বিলম্বে অপারেশন করা হবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা ততই বাড়বে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।