গুড় না মধু- ওজন কমাতে কোনটি বেশি কার্যকর?

35

ওজন বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিনিকে ধরা হয়। এ কারণে ওজন কমাতে হলে সবার আগে খাদ্য তালিকা থেকে চিনি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই আজকাল চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় বা মধু খান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে মধু এবং গুড় খেলেও ওজন বাড়ে। এতে অন্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি১, বি৬ এবং ভিটামিন সি থাকে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

আয়ুর্বেদ অনুসারে, প্রতিদিন সকালে এক কাপ গরম পানিতে একটু গুড় মিশিয়ে খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। অনেকে ভালো হজমের জন্য খাওয়ার পর একটু গুড় খাওয়ার পরামর্শ দেন। গুড় শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা ফেনোলিক কম্পাউন্ড শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

গুড়ের মিষ্টির স্বাদ চিনির তুলনায় একটু কম হওয়ায় অনেকেই চিনির চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে গুড় খান। অনেকে এক কাপে চায়ে এক চামচ চিনি খান, কিন্তু সেই একই মিষ্টি স্বাদ পেতে তাকে এক কাপ চায়ে দু চামচ গুড় মেশাতে হয়। এতে স্বাভাবিক ভাবেই ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু বেশি পরিমাণে গুড় খেলে তা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষতি করে।

প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে খাবারে মিষ্টির স্বাদ আনতে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হচ্ছে মধু। চিনিতে গ্ল‌ুকোজ ও ফ্র‌ুকটোজের পরিমাণ থাকে ৫০-৫০ ভাগ। অন্যদিকে মধুতে গ্ল‌ুকোজ থাকে মাত্র ৩০ শতাংশ, আর মাত্র ৪০ শতাংশ থাকে ফ্র‌ুকটোজ। মধুও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মধুর মধ্যে নানা প্রয়োজনীয় খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, নিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরের ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

তবে গুড়ের মতো মধুও পরিমাণ বুঝে খেতে হবে। তা না হলে শরীরে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ওজন কমার বদলে বেড়ে যাবে। এক চামচ মধুতে এক চামচ চিনির সমান ক্যালরি থাকে। তবে মধু চিনির চেয়ে ভালো কারণ এতে অন্যান্য উপকারিতা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে মিষ্টির স্বাদ পেতে চিনি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে গুড় এবং মধু খেতে পারেন। কিন্তু তা যত খুশী বা ইচ্ছে মতো নয়। খেতে হবে পরিমাণ মতো।