“গ্রাম্য চিকিৎসক দের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন”

বাংলাদেশে উপজেলা রয়েছে ৫০৭টি। ৪,৪৮৪টি ইউনিয়ন এবং ৮৭,৩১৯টি গ্রামে আছে। এই সব গ্রাম এলাকায় অসংখ্য শ্রেণী-পেশার অনেক দরিদ্র প্রান্তিক মানুষজন আছেন। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, মজুর শ্রেণীর কথা না বললেই নয়।

আজকের শহুরে সভ্যতা এই সব দরিদ্র মানুষের গায়ের ঘামের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই সব দরিদ্র মানুষ গুলো অসুস্হ হলে হাসপাতাল চেনে না, ক্লিনিক চেনে না, এমবিবিএস ডাক্তার চেনে না।

দামী হাসপাতাল, দামী ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো পয়সাও দিন আনে দিন খায় এই সব মানুষের কাছে নাই।

অসুস্থ হলে প্রাথমিক ভাবে উনারা চেনেন গ্রাম্য ডাক্তার কিংবা ফার্মেসীর ঔষধ বিক্রিওয়ালা কে। যাদের কে আমরা অনেক সময় হাঁতুড়ে ডাক্তার কিংবা প্যারা মেডিকেল ডাক্তারও বলি।

আশ্চর্যের বিষয় এই সব গ্রাম্য LMAF অথবা DMF (Diploma in Medical Faculty) ডাক্তার গণ বিশাল এই দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কে যুগের পর যুগ চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এখনও দিচ্ছেন। সর্দি, কাঁশি, জ্বর হলে এই গ্রাম্য চিকিৎসক গণই গরীব মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা।

করোনা মহামারীর এই সময়ে এই সব গ্রাম্য চিকিৎসক দের সচেতনতা, ট্রেনিং এবং পিপিই, মাস্ক সহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও ঔষধ সরবরাহ করা দরকার।

তা না হলে গ্রাম্য চিকিৎসক দের জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা দেওয়া খুবই ঝুঁকি পূর্ণ হবে। তেমনি দরিদ্র অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর চিকিৎসার শেষ আশ্রয় স্হল টুকুও নষ্ট হয়ে যাবে। যার প্রভাব শহরে অবস্থিত সরকারী হাসপাতাল গুলোতে পড়তে পারে। আর সেটা হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে কতদিন থাকবে বা আদৌ নির্মূল হবে কিনা, তা কেউই জানে না। প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য সামনের পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান এবং জরুরী হয়ে দেখা দিতে পারে খাদ্য সয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করা। তাই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য গ্রামীন সমাজ ব্যবস্থাপনা, গ্রামে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, কৃষি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে টিকিয়ে রাখার কৌশল ও রূপরেখা প্রণয়ন করা খুবই দরকার।

এই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরী বলে মনে করি।

লেখক : মো: তবিবুর রহমান, বেসরকারী চাকুরীবিদ (বিক্রয় ও বিপনন)।