হাত : স্পর্শিয়া নিলীম

604

দূরে দাঁড়ানো বিল্ডিংগুলি কুয়াশার সূক্ষজালে ঢাকা পড়ে গেছে। দৃষ্টিসীমার সবটুকুই অন্ধকার আচ্ছন্ন।প্রচন্ড হিমশীতল হাওয়া অনবরত কপাল, নাক, চোখ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। খুব সতর্কে সবটুকু বাতাস নিজের মধ্যে শুষে নিচ্ছে আর পরক্ষণেই যেনো দীর্ঘনিশ্বাস নামে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে বেলকুনিতে দাঁড়ানো কোনো এক নারী ছায়ামূর্তি। এই অন্ধকারের বুক চিড়েও তার কাজল কালোয় লেপ্টে থাকা চোখজোড়া আকাশপানে হন্যে কিছু একটা খুজে বেড়াচ্ছে। একটার পর একটা কুয়াশার আস্তরণ ভেদ করেও কোনো নক্ষত্র চোখে পড়ে না। এ যেনো অতলে হারিয়ে যাওয়ার অশনী কোনো সংকেত। প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায় মানুষটা।

–মৃণালী, এখনো দাঁড়িয়ে!!

–হুম

–ঠান্ডা লেগে যাবে যে।

–লাগবে না

আবারো যেনো রাজ্যের নিস্তব্ধতা এসে ভিড় করলো।

–আমার পাশে এসে দাঁড়াবে শুভ্র!!

কি অদ্ভুত কোমলতা মেশানো সে স্বর। মুহূর্তেই বুকজুড়ে হাহাকার শুরু হয়ে যায়। সমস্ত বুকপাজর যেনো কেঁপে উঠলো কয়েকবার। এই স্বর কে উপেক্ষা করা যায় না। কোনোভাবেই না। শুভ্র দাঁড়ালো মৃণালীর পাশে। আরও একবার নিশ্বাস টেনে নিলো মৃণালী। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাহিরে হাত বাড়িয়ে দিলো।

–বাতাসটা ছুয়ে দেখবে।

–বাতাসও কি ছোঁয়া যায়?

–হাত বাড়িয়েই দেখো।

শুভ্র হাত বাড়ালো। হাত রাখলো মৃণালীর হাতে।

মৃণালী লক্ষ্য করলো কোথাও যেনো তাঁরার ঝলকানি দেখা যাচ্ছে। মাথা রাখলো শুভ্রর কাঁধে। একটা মানুষ অন্ধকার বুকে সাতরঙা রংধনু একেঁ দেয় কি করে তা ভাবতে ভাবতে কিছুটা সুখানুভূতি গাল বেয়ে নামতেই যেনো ঘোর কাটলো।

পাশে কেউ দাঁড়িয়ে নেই। কোনো আলো নেই। প্রচন্ড অন্ধকার ছেয়ে আছে চারিপাশ। অন্ধকারে হাত ধরা মানুষটা স্মৃতির পাল্লা আরও ভারী করে দিয়ে যেনো অনন্ত আকাশে মিশে গেছে। কি অদ্ভূত!! আধাঁরের পুরুত্বটা যেনো বেড়ে গেছে কয়েকগুন। এখন আর আকাশটাও দেখা যাচ্ছে না। মৃণালী পড়ে রইলো।অন্ধকারেই পড়ে রইলো।

পরিশিষ্টঃ ভালোবেসে হাত ধরে না রাখতে পারলে সেই হাত বাড়ানো টাও পাপ। বিপরীত পাশের মানুষটা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যখন আপনার উপর ভরসা করতে শুরু করে ঠিক তখন ই আপনার হাত ছেড়ে চলে যাওয়াটা মোটেই কোনো কাজের কথা নয়। ভালোবাসা মানে ছেড়ে যাওয়া নয়। ভালোবাসা মানে সবসময় সাথে থাকা।প্রিয় মানুষটাকে যত্ন করে হৃদপাজরে আগলে রাখা।ভালোবাসা বাঁচুক। আজীবন চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকুক।