আড্ডায় মনির মোহাম্মদ

384

কবি ও কথা সাহিত্যিক মনির মোহাম্মদের সাথে আমাদের আজকের আড্ডা।


১. কেমন আছেন?
-জি আলহামদুলিল্লাহ!

২.কিছুদিন আগেই আপনি কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছেন পিতা হিসেবে আপনার অনুভুতি কেমন?

-পিতা হওয়ার অনুভুতি অনেক আনন্দের আর বিশেষ করে কন্যা সন্তানের পিতা হওয়া অনেক সুভাগ্যের ব্যাপার। আল্লাহপাক যার উপর খুশি হোন তাকেই কন্যা সন্তান দান করেন। আমি আল্লাহপাকের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া জানাই।

৩. আমরা জানি আপনি একজন অনেক বড় পাঠক। আপনার অনেক বুক রিভিউ আমরা পড়েছি সেই সাথে আপনার অনেক লেখা আর ভিডিওতে আমরা দেখেছি আপনি তরুনদের বই পড়ার প্রতি তাগিদ দেন।
-অনেক বড় পাঠক কিনা জানি না। তবে আমি পড়তে ভালোবাসি। এই অভ্যাসটি পেয়েছি আমার আব্বার কাছ থেকে। আর তরুনদের তাগিদ দেই বলতে গেলে তাদের বলি আপনারা বই পড়ুন, আমাদের বিশাল সাহিত্য ভান্ডার আছে। বইয়ের চেয়ে বড় বন্ধুতো আর কেউ হতে পারে না।

৪.আপনার লেখালেখির প্রেরণা কে?
-আমি গরীব স্কুল শিক্ষকের সন্তান। কিন্তু আব্বা আমাদের কোনোদিন সেটি বুঝতে দেননি। লেখালেখির প্রেরণা বলতে গেলে সেটি আমার আব্বা। অনেক আগের কথা তখনতো এত কিছু ছিল না, চাইলেই আমরা বই পড়তেও পারতাম না। আব্বা প্রতি মাসেই একটি করে গল্পের বই এনে দিতেন পড়ার জন্য। পড়া শেষ হলে কী বুঝেছি তা আব্বাকে এসাইনম্যান্ট এর মত জমা দিতে হত। এখন আমরা বুক রিভিউ দেই যেভাবে অনেকটা এরকম। এভাবে আস্তে আস্তে লেখা শুরু। তখন রেডিওতে কলকাকলি বিভাগ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার হত। সেখানে লেখা পাঠাতাম মাঝে মাঝে উনারা আমার লেখা পড়ত, এতে করে আগ্রহটি আরও বেড়ে গেলো।

৫. ফ্যামিলি থেকে লেখালেখিটা কিভাবে নিচ্ছে?
-ভালোভাবেই নিচ্ছে সবাই। প্রথম বই প্রকাশের পর একটু ভয় ছিল। আসলে পাঠক আমার মত সামান্য মানুষের দুর্বল লেখা পড়বে কিনা। তবে পাঠক আমাকে ভালোবেসে গ্রহন করেছে। এটি আল্লাহপাকের রহমত।

৪.আপনার লেখনীতে নাগরিক জীবন আর গ্রামীণ জীবন দুটিরই প্রভাব লক্ষণীয়। সেই সাথে আপনার কবিতা আমাদের খুব প্রিয়। কবিতার বই কেন পাচ্ছিনা?


-গল্পগুলোতো জীবনের আর জীবনের গল্পে গ্রামীন আর শহুরে জীবন সবই প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে গল্প লেখার সময় গল্প কোনদিকে যাবে সেটি বুঝা মুশকিল। তবে একটি প্লট কল্পণা করে রাখি তার উপর ভিত্তি করে গল্প নিজের মত এগিয়ে যায়। কবিতা লিখছি, লিখে যাচ্ছি একদিন ইনশাল্লাহ বই আকারে প্রকাশ হবে।

৫. ফিল্ম মেকিং নিয়ে কী প্ল্যান?
-ফিল্ম অনেক বড় একটি শিল্প। তবে অনেক ভালোবাসা কাজ করে ফিল্ম এর প্রতি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ করে নিজের ভুলগুলো বের করার চেষ্টা করছি আপাদত।

৬.কোনো লেখা পড়ে কখনো কী ভেবেছেন ইশ! যদি এমন একটা কিছু লিখতাম?
-সেটি সবসময় হয়। যখন তারাশঙ্কর পড়তাম তখন ভাবতাম উনার মত করে যদি লিখতে পারতাম। যখন আহমদ ছফা পড়ি তখন মনে হয় যদি উনার মত করে কোনো সাহিত্য লিখে যেতে পারতাম। এরকম অনেক হয় তবে কেউ কারও মত লিখতে পারে না। প্রতিটি লেখক নিজের মত করেই লিখবে এটাই বাস্তবতা। আমি চাইলেই একটি ইউলিসিস এর মত কোন কিছু লিখতে পারবো না। আমি চাইলেই কাজী নজরুল, রবী ঠাকুর উনাদের মত লিখতে পারবো না। আদতে কেউ কারও মত নয়।

৮.প্রিয় চলচ্চিত্রকার কে?

  • সত্যজিৎ রায়

৯. আপনার “এগারসিন্ধুর’ গ্রামীন আর শহরের দুটি পটভূমিতে লেখা। “নয়া বউ” উপন্যাস কোন পটভূমিতে
লেখা?

  • নয়া বউ উপন্যাসটি নাম শুনেই মনে হয় একটি মাটির গন্ধ। আমার এই উপন্যাসটি গ্রামীন পটভূমিতে লেখা হলেও গল্পের প্রয়োজনে শহুরে জীবনের কিছুটা ছাপ রয়েছে।

১০. শেষ প্রশ্ন আপনার পড়া প্রিয় পাঁচটি বই আর প্রিয় তিনটি মুভি আপনার পাঠকদের যদি বলতেন।

-প্রিয় পাঁচটি বই বলা খুব কঠিন কাজ। অনেক বই আছে আমার অনেক প্রিয়। সে হিসেবে বলতে গেলে কাজী নজরুল ইসলামের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’ আহমদ ছফার ‘মরণ বিলাশ’
জেমস জয়েস এর ‘ইউলিসিস’।

প্রিয় মুভি বলতে প্রথমেই বলব সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ টম হ্যাঙ্কস এর ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ ভিত্তোরিও ডি সিকার ‘দ্যা বাইসাইকেল থিফস’।

১১. আপনার পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

-একজন লেখকের প্রাণ হচ্ছে পাঠক। আপনাদের ভালোবাসাই আজীবন লিখে যাব ইনশাল্লাহ। অমর একুশে বইমেলায় দেখা হবে ইনশাল্লাহ নতুন উপন্যাস “নয়া বউ” নিয়ে দাঁড়িকমা স্টল নং ৬৯৮ এ প্রতি শুক্র ও শনিবার বিকাল ৪:০০ থেকে রাত্র ৮:০০ টা অবধি। সবাই ভাল থাকুন নিরাপদে থাকুন।