পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত ভোলার স্বাধীনতা যাদুঘর (ভিডিও)

249

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা ও তা সংরক্ষণ করতে ভোলার বাংলাবাজারে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্বাধীনতা জাদুঘর।

শুধু স্বাধীনতা আন্দোলন নয় স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের ৮০ বছরের ইতিহাসের ধারাবাহিক দুর্লভ সংরক্ষণ রয়েছে এই জাদুঘরটিতে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থানের মহা নায়ক ভোলা ১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিদিন বহু পর্যটক আসে এই জাদুঘরটি দেখে মুগ্ধ হন।

তোফায়েল আহমেদ মায়ের নামে বাংলাবাজারে প্রতিষ্ঠিত ফাতেমা খানম কমপ্লেক্সে ৪ বছর আগে ২০১৫ সালে স্বাধীনতা জাদুঘরটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর গত ২৫ জানুয়ারী (২০১৮) রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়।

জাদুঘরটিতে তিনটি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম তলার গ্যালারিতে এক পাশে ইতিহাস ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ৪৭-এ দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের দুর্লভ ছবি ও তথ্য রয়েছে। অপর পাশে রয়েছে লাইব্রেরি ও গবেষণাগার।

এছাড়া একই তলায় রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে হলরুম। যেখানে প্রদর্শীত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ও চলচ্চিত্র। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ইতিহাসের মুহূর্তগুলোর চিত্রকল্প। তৃতীয় তলায় রয়েছে ৫৮ ও ৬৬-এর আন্দোলন।

এছাড়া ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭ মার্চের ভাষণসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের আত্মত্যাগের দুর্লভ সব আলোকচিত্র। এছাড়া জাদুঘরটির একটি অংশে বাঙালির লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরটিতে দর্শনার্থীরা ডিজিটাল টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও তথ্য জানতে পারছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের ৮০ বছরের ইতিহাসের ধারাবাহিক দুর্লভ সংরক্ষণ রয়েছে এই স্বাধীনতা জাদুঘরটিতে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পাশাপাশি জাদুঘরটিতে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির বিন্যাস ঘটানো হয়েছে।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুনসহ বেশ কয়েকজন গবেষকের নিরলস পরিশ্রমে জাদুঘরটি অন্যতম সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন বহু পর্যটক জাদুঘরটি দেখতে ছুটে আসেন এখানে। বাংলাদেশের তরুন প্রজন্ম যাদের কাছে মুক্তি যুদ্ধের কোন স্মৃতি নেই, এখান থেকে বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাসের শিক্ষা নিতে পারবে তারাও। পাশাপাশি ভাষা অন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখতে ও জানতে পারছে নতুন প্রজন্ম, এমনটাই মনে করছেন সাধারণ পর্যটকরা।