নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ইন্টারকন্টিন্যানটাল ব্যালেস্টিক মিসাইলের প্রথম যুগ

216

স্নায়ুযুদ্ধ বা (কোল্ড ওয়ার) চলাকালীন চরম মুহুর্তে পঞ্চাশের দশকে সভিয়েত ইউনিয়ন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটকে কৌশলগতভাবে প্রতিহত করার জন্য এবং সরাসরি ইউরোপের দেশগুলোতে পারমাণবিক অস্ত্র হামলার কৌশলকে সামনে রেখে অত্যন্ত গোপনে নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ক্যাপবল ইন্টার কন্টিন্যাটাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করে। অবশ্য সভিয়েত ইউনিয়ন এর ইন্টার কন্টিন্যাটাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) প্রথম সফল উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হলেও এই গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাপক ব্যবহৃত জার্মানের ভি-২ মিসাইল। অর্থ্যাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের জার্মান চুড়ান্তভাবে পরাজিত হলে মার্কিন এবং সভিয়েত বাহিনী জার্মানের গোপন ভি-২ মিসাইল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে অভিযান চালিয়ে যতটা সম্ভব ভি-২ মিসাইলের ডুকমেন্ট এবং ব্লু প্রীন্ট সংগ্রহ করে নিজ দেশে নিয়ে যায়। আর এই ভি-২ মিসাইলের উপর ভিত্তি করে প্রায় এক দশক ব্যাপী গবেষণা চালিয়ে সভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের মধ্যে সর্ব প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তির ভূমি ভিত্তিক মাল্টি স্টেজ আর-৭ ইন্টার কন্টিন্যাটাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) তৈরি করতে সক্ষম হয়।

১৯৫৩ সালে সভিয়েত ইউনিয়নের মিসাইল ডেভলপমেন্টের মুখ্য বিজ্ঞানী সের্গেই কোরোলিওভকে সরকাররের পক্ষ থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং উন্নত হাইড্রোজেন ওয়ারহেড পরিবহণে সক্ষম একটি সত্যিকারের কার্যকরী ইন্টার কন্টিন্যাটাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) নির্মান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় সভিয়েত ইউনিয়ন সাইলো বেসড আর-৭ ব্যালেস্টিক মিসাইলের প্রথম লঞ্চটি করে ১৫ মে ১৯৫৭ সালে। কিন্তু আর-৭ মিসাইল লাউঞ্চের সাইট থেকে ৪০০ কিলোমিটার (২৫০ মাইল) পর্যন্ত গিয়ে মিসাইল্টি অপ্রত্যাশিত ভাবে আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়।

তবে আর-৭ মিসাইলের প্রথম সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় ১৯৫৭ সালের ২১ শে আগস্ট এবং এই পরীক্ষায় আর-৭ আইসিবিএম মিসাইল প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার (৩৭০০ মাইল) অতিক্রম করে এবং বিশ্বের প্রথম ইন্টার কন্টিন্যাটাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে নিজের যোগ্য স্থান করে নেয়। যদিও সভিয়েত ইউনিয়নের এই সাফল্যটি ছিল মার্কিন জোটের জন্য চরম বিপদ এবং হতাশাজনক। সভিয়েত ইউনিয়ন তার (আইসিবিএম) মিসাইল ১৯৫৮ সালেই সার্ভিসে আনতে শুরু করে। আর কোল্ড ওয়ার যুগের চরম মাত্রায় অস্ত্র প্রতিযোগিতার মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব ভূমি ভিত্তিক ইন্টার কন্টিন্যানিট্যাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (এসএম-৬৫ এটলাস) এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে ৯ জুলাই ১৯৫৯ সালে। তাছাড়া চীন ১৯৬০ সালে (আইসিবিএম) প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করলেও তা সার্ভিসে আনতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। চীন ১৯৭৫ প্রথম বারের মতো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির লিকুইড ফুয়েল চালিত ডিএফ-৫ হেভী রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে আকাশে স্যাটালাইট প্রেরণ করে। তবে পূর্ণাঙ্গ আইসিবিএম হিসেবে রেড জায়ান্ট চায়না এক জোড়া সাইলো বেসড ১০,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-৫ কে সার্ভিসে নিয়ে আসে। তবে মনে করা হয় ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারে এ জাতীয় ২০টি ডিএফ-৫ আইসিবিএম সার্ভিসে ছিল।