বাগধারা| অভিষেক দেবনাথ অভ্র
  1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত
  8. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  9. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  12. [email protected] : Sobuj Ali : Sobuj Ali
বাগধারা| অভিষেক দেবনাথ অভ্র
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

বাগধারা| অভিষেক দেবনাথ অভ্র

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৮২৮ জন পড়েছেন

‘কী সমস্যা অভি? কল ধরো না কেন?’ মেখলীন রেগে আছেন। তুমুল রাগ। এত রাগ ভাঙানোর সাধ্য আমার নাই। চেষ্টাও করবো না। আমার প্রেমিকা আশেপাশের আর সকল প্রেমিকার মতো না। ও আমার চেয়ে চার বছরের বড়। এর মধ্যে তিনটা জব সুইচ করে ফেলেছেন। ৬ ডিজিটের বেতন পান। আর আমার ৯ হাজারের আয় আসে তিনটা টিউশন থেকে।
মেসেঞ্জারে মেখলিনের নিকনেইম সেট করেছি ‘মেম সাহেব’;
আর মেখলিন আমার নিকনেইম রেখেছেন টিউশন শ্রমিক!
‘অপদার্থের মতন ফোন রিসিভ করে চুপ করে থাকার মানে কী?’ মেখলিন আরও রেগে যাচ্ছেন…
‘অপদার্থ শব্দটা ব্যবহার না করে বলতে পারতেন অকাল কুষ্মাণ্ড, কিংবা আমড়া কাঠের ঢেঁকি, ঢেঁকির কুমির, কচুবনের কালাচাঁদ, কায়েতের ঘরের ঢেঁকি, ঘটি রাম, ষাঁড়ের গোবর এদর যে কোনোটা। সবগুলোর অর্থই একটাই! অপদার্থ!’
আমি চাপা গলায় বললাম।
‘আরেব্বাস! তা বাংলার মাস্টার হলে কেবে থেকে?’
‘বাংলার মাস্টার হইনি। চাকরিবাকরি তো একটা জুটাতে হবে। বউ সিক্স ডিজিট পেলে বর বেকার থাকলে মানায়…?’
‘তুমি? চাকরির জন্য পড়ছ! এমন অসম্ভব জিনিস কী করে ঘটল!’ মেখলিন ঠাট্টা করে বললেন না কি অবাক হয়ে বললেন বুঝলাম না! মেয়েটা গত তিন চার বছর আমাকে জব প্রিপারেশন নিতে বলে বলে জিভের জল শুকিয়ে ফেলেছেন। আমি পড়িনি। এখন অবাক হওয়া স্বাভাবিক।
আমি হেসে বললাম, ‘অসম্ভব জিনিস না বলে বলতে পারেন আকাশ কুসুম। আরও বলতে পারেন কাঁঠালের আমসত্ত্ব, কুমিরের সান্নিপাত, ঘোড়ার ডিম, ব্যাঙের সর্দি কিংবা সোনার পাথর বাটি। সবগুলোর অর্থ এক!’
মেখলিন এক মুহূর্ত চুপ থেকে বললেন, ‘বাগধারা পরছিলে?’
‘হুম। একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম। অনেক বাগধারার অর্থ একই। সবগুলোকে একসাথে করে শিখলেই তো কষ্ট কমে যায়! এই যেমন ভুতের বাপের শ্রাদ্ধ, ভস্মে ঘি ঢালা, হরিলুট –এসবই অপব্যয়। আবার দুধের মাছি, বসন্তের কোকিল, শরতের শিশির, সুখের পায়রা, লক্ষীর বরযাত্রী –এসবগুলোর অর্থ সুসময়ের বন্ধু!’
‘আচ্ছা তুমি পড়ো। আমি আর ডিস্টার্ব না করি।’
‘ডিস্টার্বড কেনো হবো? আপনি তো আমার সবেধন নীলমণি, অন্ধের যষ্ঠি! অর্থ্যাৎ একমাত্র অবলম্বন।’
‘তোষামুদে হয়েছ তো বেশ!’ মেখলিন হাসছেন।
‘তোষামুদে এর বাগধারা হলো খয়ের খাঁ, ধামাধরা কিংবা ঢাকের কাটি।’
মেখলিন এবারে শব্দ করে হাসছেন, ‘দেখি বলো তো, বাঘের চোখ কী?’
‘বাঘের চোখ, আকাশের চাঁদ, আলেয়ার আলো সবগুলো বাগধারার অর্থ হলো দুর্লভ বস্তু।’ আমি দাঁত দেখিয়ে হাসলাম। যদিও ফোনের ওপাশে মেখলিন আমার দাঁত দেখতে পাচ্ছেন না। আমি আরও বললাম, ‘আপনি একটা বাঘের চোখ বলেই তো আপনাকে পাওয়া দিবা স্বপ্ন বা শূন্যে সৌধ নির্মাণ করা ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।’
‘এ মা গো। এর অর্থ কী?’
‘অলীক কল্পনা।’
‘ধরো যদি আমাদের প্রেম না হয়ে ভীষণ শত্রুতা হতো?’
‘অহি নকুল, দা কুমড়া, আদায় কাঁচকলায় কিংবা সাপে নেউলে হতাম! কিংবা হতাম না।’
‘কেনো হতে না?’
‘কারণ আমি আটাশে ছেলে, উনপাঁজুরে অর্থ্যাৎ দুর্বল। হি হি।’
‘উহু। আমাদের দু জনের বেশ সুন্দর মিল।’
‘হ্যাঁ। আপনি আর আমি আমে দুধে মেশা, সোনায় সোহাগা, মানিক জোড় কিংবা মনিকাঞ্চনযোগ।’
‘হি হি। তুমি কানকাটা, চশমখোড়, দু কান কাটা অর্থ্যাৎ বেহায়া হলেও তোমাকে ভালোবাসি তো।’
আমি মুখ উঁচিয়ে বললাম, ‘তাই? আপনি বুঝি খুব মুখচোরা বা মেনিমুখো অর্থ্যাৎ লাজুক?’
মেখলিন হাসছেন, ‘ব্যাস বাবা। আমি আর পারি না ওসব।’
‘আপনার বাবার কথা বলতেই মনে পড়ল। উনি হচ্ছেন কঞ্জুসের ডাণ্ডাখোর, কিপটের জাসু, হাত ভারী কিংবা হাতে জল না লাগা ব্যক্তি। অর্থ্যাৎ অত্যন্ত কৃপণ।’
‘হুপ। ফাজিল। বাবাকে নিয়ে কিছু বলবে না। তোমার কী লাগবে আমায় বলো।’
‘উহু। আমি গোঁফ খেজুরে, টিমে তেতালা, চিনির পুতুল কিংবা ননীর পুতুল অর্থ্যাৎ অলস ব্যক্তি। তার উপর আমি ইঁদুর কপালে, আট কপালে কিংবা খ-কপাল। আরও আছে, অষ্ট কপাল, কাঁজি ভক্ষণ নামে গোয়ালা, হাড় হাভাতে, কপাল পোড়া। অর্থ্যাৎ মন্দ ভাগ্য বিশিষ্ট লোক। এত একাদশে বৃহস্পতি বা কপাল ফেরা, মানে সৌভাগ্য হজম হবে না।’
মেখলিন দাঁত চেপে হেসে বললেন, ‘তুমি যে বাংলা ব্যাকরণের অক্কা পাইয়ে দিচ্ছ, তা বুঝতে পারছ?’
আমি ভেবে বললাম, ‘উমমম… বাংলার অগ্যস্ত যাত্রা, পটল তোলা, অনন্ত শয্যা, ভবলীলা সাঙ্গ হওয়া, পঞ্চত্ব প্রাপ্তি বা অক্কা পাওয়া সংঘটিত হলে হোক। শেখা তো হচ্ছে! নির্বোধেরা এভাবেই শেখে। নির্বোধের বাগধারা কী? উমম… অসাকান্ত. অঘাচণ্ডী, অঘারাম, অহারাম, ঢেঁকি অবতার কিংবা বুদ্ধির ঠেঁকি। বাহ… মনে আছে তো! আর অকর্মণ্য হলো অপডণ্ড, কুমড়ো কাটা বট ঠাকুর, গোবর গণেশ আর ঠুটো জগন্নাথ।’
‘আমার না মাথা বনবন করছে। রাখি?’
‘একটা সত্যি কথা বলবো? আপনি ভাবছেন মুখস্ত বলছি? বই ঘেঁটে নোট বানিয়ে তা দেখে দেখে পড়ছি। খিক্!’ আমি সত্যিই খিক্ খিক্ করে হাসলাম।’
মেখলিন বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘এবারে সত্যিই মুখস্ত করে নাও। ভন্ড!’
‘ভন্ড এর বাগধারা হলো বক ধার্মিক, ভিজে বিড়াল, বর্ণ চোরা, বিড়াল তপস্বী, তুলসী বনের বাঘ।’
‘তোমাকে তো পড়তে না বলাও ভুল। পড়তে বলাও বিপদ। ভীষন উভয়সঙ্কট তো!’
‘হমমম… জলে কুমির ডাঙায় বাঘ, শাখের করাত, করাতের দাঁত, শ্যাম রাখি না কুল রাখি কিংবা সাপের ছুচো গেলা।’
মেখলিন ফোন রেখে দিল। অধিক লেখাপড়া অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়। আশেপাশের মানুষ প্রাথমিকভাবে অবজ্ঞা করতে শুরু করতে পারে! অবজ্ঞা করার বাগধারা কী? নাক উঁচানো কিংবা নাক সিঁটকানো। যাক, মেমসাহেবকে একটা কল দিয়ে দেখি ধরেন কিনা!

লেখা: অভিষেক দেবনাথ অভ্র

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড