1. [email protected] : জাহিদ হাসান দিপু : জাহিদ হাসান দিপু
  2. [email protected] : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা : মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, খুলনা
  3. [email protected] : বার্তা ডেস্ক : বার্তা ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  5. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  6. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  7. [email protected] : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত : আল-আসিফ ইলাহী রিফাত
  8. [email protected] : Shaila Sultana : Shaila Sultana
  9. [email protected] : দৈনিক নোঙর ডেস্ক : দৈনিক নোঙর ডেস্ক
  10. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  11. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় নিয়ে একটি সমকালীন বিশ্লেষণ
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় নিয়ে একটি সমকালীন বিশ্লেষণ

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯
  • ১৩২১ জন পড়েছেন

বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত রপ্তানি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রথম এগারো মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সে হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই/১৮-মে/১৯) পর্যন্ত ৩৭.৭৫ বিলিয়ন ডলার বা টাকার হিসেবে ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ১০৫ কোটি ৪ লক্ষ টাকার পণ্য বিদেশে রেকর্ড পরিমাণে রপ্তানি করা হয়েছে। আর এই রপ্তানি আয় গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৯২% বেশি এবং সুনির্দিষ্ট সময়ে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা ৬.৬৪% বেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাছাড়া চলতি অর্থ বছরের শেষ জুন মাসের বর্ধিত রপ্তানি বিবেচনা করলে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর শেষে সামগ্রিক রপ্তানির পরিমাণ ৪০.০০ বিলিয়ন ডলারের সীমাকে স্পর্শ করতে পারে বলে মনে করা হয়। যদিও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মোট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৯.০০ বিলিয়ন ডলার বা ৩ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকা।

ইপিবি এর প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে একক মাস হিসেবে মে মাসে/১৯ সর্বোচ্চ পরিমাণ ৩৮১ কোটি ৩৩ লক্ষ ডলার বা ৩২ হাজার ৩১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ পণ্য রফতানি করা হয়েছে। যা এই মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.২৩% বেশি এবং গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের মে মাসের তুলনায় ১৪.৭৮% বেশি প্রবৃদ্ধি হিসেবে ধরা হয়।

আসলে বর্তমান হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১৫.৫০ বিলিয়ন ডলার। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। আর সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭.৭৫ বিলিয়ন ডলার। যেখানে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১২ মাসে রপ্তানি আয় থেকে আসে ৩৬.৬৭ বিলিয়ন ডলার। আবার ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে রপ্তানি আয় ছিল ৩০.১০ বিলিয়ন ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩১.২০ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৩৪.২০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩৪.৮০ বিলিয়ন ডলার।

বৈশ্বিক পর্যায়ের বেশ কিছু দেশের ২০১৮ সালের সার্বিক রপ্তানি আয় এবং চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি ভারতের মোট রপ্তানির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৩০.০০ বিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতি ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ২০১৮ সালে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার। যা একক দেশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিমাণে রপ্তানি আয় হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক ও সামরিক সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক জিডিপি এর আকার বিশ্বের সর্বোচ্চ ২১.৩০ ট্রিলিয়ন ডলার (২০১৯) দেখনো হলেও রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমে এসে ১.৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। যা কি না ২০১৮ সালের হিসেবে চীন অপেক্ষা ৮২০.০০ বিলিয়ন ডলার কম। আর এতে ভীষণ চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন এখন কার্যত চীনের রপ্তানি পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে রেড জায়ান্ট চীনের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে বদ্ধপরিকর। তবে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তান ২০১৮ সালে ২৪.৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করেছিল এবং ২০১৭ সালে তার পরিমান ছিল ২১.৫৭ বিলিয়ন ডালার।

এখানে প্রকাশ থাকে যে, বরাবরের মতো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার ও ওভেন) শিল্প সার্বিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বিগত তিন দশক থেকেই। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে তৈরি পোশাক রফতানি বাবদ ৩১.৭৩ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। যা কিনা টাকার অঙ্কে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা এবং মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪.০৫%। আর এই রপ্তানি আয় গত ২০১৭-১৮ অর্থ একই সময়ের তুলনায় ১২.৮২% এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬.৯৫% বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মধ্যে নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৫.৬৮৩ বিলিয়ন ডলার বা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.৯৮% বেশি। অন্যদিকে ওভেন গার্মেন্টস সেক্টরে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬.০৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.৯২% বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তবে এখানে প্রকাশ থাকে যে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান বা হার ৮৪.০৫% হলেও দেশের অন্যান্য সব সেক্টরের একত্রে অবদান মাত্র মোট রপ্তানি আয়ের মাত্র ১৫.৯৫%। তাই তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান বাদ দিলে আমাদের অন্যান্য রপ্তানির ক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা যথেষ্ঠ পরিমানে কম বা অনেকটাই হতাশাজনক পর্যায়েই রয়ে গেছে বলে আমি মনে করি। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে তৈরি পোশাক শিল্প কিন্তু অতি মাত্রায় কাঁচামাল, মূলধনী যন্তপাতি এবং সাজ সরঞ্জাম আমদানি নির্ভর একটি সেক্টর। অর্থ্যাৎ তৈরি পোশাক শিল্পের মোট রপ্তানি আয়ের আনুমানিক ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ব্যয় হয়ে যায় এ শিল্পের কাঁচামাল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাজ সরঞ্জাম সার্বক্ষণিকভাবে আমদানি করতে। তাই এ সেক্টর থেকে রপ্তানি আয় হিসেবে ৩১.৭৩ বিলিয়ন ডলার আসলেও, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কেবল এর শ্রমের মজুরি, প্রসেসিং কষ্ট এবং নীট মুনাফা বাবদ ৩৫% থেকে ৪০% আকারে মাত্র ১০.০০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১২.০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরাসরি অবদান রাখতে পারে।

অন্যদিকে, ইপিবি এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮৫.০০ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩২ শতাংশ। তাছাড়া একই সময়ে অন্যান্য সেক্টরের রপ্তানি আয়ের হিসেবে প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য ১১.০০ কোটি ডলার, পাট ও পাটজাত পণ্য ৭৭.৩৫ কোটি টাকা, চামড়াজাত পণ্য ৯৪.৩৮ কোটি ডলার। তবে গত বছরের তুলনায় পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আশাঙ্খাজনক হারে কমে এসেছে। আর এই দেশীয় কাঁচামাল নির্ভর রপ্তানি খাতের তুলনামূলক বিপর্যয় আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য মোটেও কোন সুখবর নয়। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশে প্রতিষ্ঠিত হাজার হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ খেলাপির (১ লক্ষ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা) হার ও পরিমাণ এক লাখের সীমাকে অতিক্রম করায় ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব দেশের সার্বিক রপ্তানি আয়ের উপর যে স্পর্শ করবে না তা কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এখানে তৈরি পোশাক শিল্প ব্যাতিত অন্যান্য সকল সেক্টরের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি এবং পরিমাণ যাই হোক না কেন, দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বিবেচনায় তা মাত্র ৬.০৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আর এটি কিন্তু কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশের মতো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বা উদীয়মান অর্থনীতি এবং বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭.৫০% হারে জিডিপি অর্জনকারী দেশের জন্য মোটেও কাম্য হতে পারে না। তাই আমাদের অবশ্যই দেশীয়ভাবে নুন্যতম ৭০% পর্যন্ত প্রাপ্ত কাঁচামাল নির্ভর এবং শ্রমঘন শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী রপ্তানি খাত গড়ে তুলার কোন বিকল্প হতে পারে না। পাশাপাশি অতি মাত্রায় আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এনে শিল্পায়নে যতটা সম্ভব দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার নিশ্চিত করণে দেশের সরকার, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে তাঁদের হাতে থাকা সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে করে আমাদের সোনার বাংলাদেশ আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এনে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে।

সিরাজুর রহমান

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌজন্যে : নোঙর মিডিয়া লিমিটেড